🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

সোনালী আঁশে সুদিন ফিরছে ফরিদপুরের কৃষকদের

সোনালী আঁশে সুদিন ফিরছে ফরিদপুরের কৃষকদের
❏ শনিবার, আগস্ট ৭, ২০২১ খুলনা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি:

সোনালী আঁশ খ্যাত পাটে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে ফরিদপুরের কৃষকদের। বাজারে ভালো দাম আর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফরিদপুরে দিন দিনই বাড়ছে এর চাষাবাদ।

এদিকে, পাট ধোয়া ও শুকানোর কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে জেলাটিতে। সোনালি আঁশের সোনালী রংয়ে ভরে গেছে কৃষকের ঘর। বাজারে দাম ভাল থাকায় পাট ধোয়া ও রোদে শুকানোর ধুম পড়েছে জেলার সর্বত্রই। মৌসুমের শুরুতেই পাট বিক্রি করে ভাল দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। ফলনও হয়েছে ভাল । জেলার হাট-বাজার গুলোতে প্রতি মণ পাট তিন হাজার থেকে বত্রিশ শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তাই ভালো ফলন ও আশানুরুপ দাম পেয়ে বিগত বছর গুলোতে লোকসানে পড়া কৃষকদের মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটে উঠেছে।

ফসলের খেত নদী বা খাঁলের পাড়, রাস্তার ধারে এমনকি কৃষকের বাড়ির উঠান সবখানেই পাট কাটা, ধোয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর ব্যস্ততা। ফরিদপুরের প্রতিটি গ্রামেই এখন চিরচেনা এই দৃশ্য চোখে পড়বে। পাট শুকানোর জন্য বেছে নেয়া হয়েছে বাঁশের আঁড় ও বিভিন্ন ব্রিজের রেলিংও।

সোনালী আঁশ কৃষককে দিয়েছে সুদিনের ডাক। তাইতো পাট বাজার উপযোগী করে তুলতেই এ জেলার কৃষক-কৃষাণীর এখন যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।

জেলার সদরপুরের কৃষক ফজর আলী ও শাহাদাৎ হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতেই এ বছর পাটের বাজারে পাইকার,ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের আনাগোঁনা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই পাটের দাম আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সালথার খোয়ার গ্রামের কৃষক সেলিম মাতুব্বর, সামচেল ফকির ও আজিজুল মাতুব্বর জানান, এ জেলায় একসময় পাটের ব্যাপক চাষাবাদ হতো। কিন্তু একের পর এক পাট কল বন্ধ হওয়ার পর বাজারে কমে এর চাহিদা। ফলে তারা পাট চাষ থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নেন।

বর্তমান সরকার বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুর পাঁশাপাশি পাটের বহুমুখি ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। তাই বাজারে আবারো এর চাহিদা বেড়েছে। দামও মোটামুটি ভালো। এ কারণেই তারা আবারও চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া এলাকার কৃষক করিম শেখ জানান, এবার অতিবৃষ্টি এবং বর্ষা পাটের জন্য আর্শীবাদ হয়ে এসেছে। সর্বত্র পানি থাকায় পাট পঁচাতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এ কাজে রয়েছে শ্রমিক সংকট। দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দিয়েও একজন শ্রমিক মিলছে না। শ্রমিকের দাম বেশি থাকায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

ফরিদপুরের প্রায় প্রতিটি হাটেই কম বেশি পাট বিক্রি হয়। তবে কানাইপুর, সালথা বাজার, ময়েনদিয়া ও কৃষ্ণপুর হাটে পাটের সবচেয়ে বড় আড়ৎ। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকার আসেন এখান থেকে পাট কিনতে। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ থেকে ৩২০০০ টাকা দরে। পাটের এ দামে খুশি চাষিরা।

শুকুর মিয়া, বুলবুল, ও আবু মুসা নামের কয়েকজন চাষি জানান, পাটের এ দাম ঠিক থাকলে আগামীতে পাটের চাষাবাদ আরো বাড়বে। বাজার থেকে মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম কমালে তারা আরো লাভবান হতেন।

ফরিদপুর কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশ থাকায় এ জেলায় এবছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হযরত আলী জানান, কৃষকদের যদি পর্যাপ্ত সার, ব্রীজ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা যেত তাহলে তারা পাট চাষে আরও আগ্রহী হতেন।

এছাড়া, পাটের বহুমুখি ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পাটের সুদিন ধরে রাখা সম্ভব। এজন্য সরকারকে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন