🕓 সংবাদ শিরোনাম

স্ত্রীর তালাকে স্বামীর ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যাসংক্রমণ বাড়লে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ: শিক্ষামন্ত্রীশরীয়তপু‌রে বে‌পরোয়া কিশোর গ্যাং, হাত বাড়া‌লেই মিল‌ছে মাদক!বিএনপির কোনো পরিকল্পনা সার্থক হবে না: শাজাহান খানকর্ণফুলীতে ধান ক্ষেত থেকে রিক্সা চালকের লাশ উদ্ধারঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হবে ২০২৬ সালেমালয়েশিয়ায় গার্মেন্টস কারখানার বাংলাদেশী মালিকসহ ৪৫ জন রিমান্ডে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন কার্যক্রম উদ্বোধনসংকুচিত হচ্ছে বনাঞ্চল: টেকনাফে ফের বন্য হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যুদেশে বিনিয়োগ করুন: প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

  • আজ শনিবার, ১০ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

ইয়াবায় ভাসছে কক্সবাজার: একদিনে ৫ লাখ জব্দ, চার রোহিঙ্গাসহ আটক ৬

ইয়াবায় ভাসছে কক্সবাজার
❏ শনিবার, আগস্ট ৭, ২০২১ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি:

মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান। ক্রসফায়ার। ইয়াবার কারখানা ধ্বংস। ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ। আইন সংশোধন। সীমান্তে কড়া নজরদারি। কোন কিছুতেই থামছে না ইয়াবার কেনা-বেচা।

একের পর এক উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার চালান দেশে ঢুকছে। পুরাতন রুট পরিবর্তন করে নতুন রুট। আকাশপথ, সড়ক পথ, রেল পথ পরিবর্তন করে এখন নৌ-পথ ও পাহাড়ী পথে আনা হচ্ছে চালান। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব চালান পাঠানো হচ্ছে সারাদেশে। গ্রাম থেকে শহরের অলিগলি। সব জায়গায়ই পাওয়া যাচ্ছে মরণনেঁশা ইয়াবা। অতি লাভজনক হওয়াতে এ ব্যবসায় যোগ দিচ্ছেন নতুন নতুন মুখ।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যাকাণ্ডের পর কিছুদিন ইয়াবা পাচার কমে এলেও সম্প্রতি আবার তা ব্যাপক হারে বেড়েছে। এ কারণে মাদক কারবারিরা নিত্যনতুন রুট পরিবর্তন করছে। সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড়ি সড়ক ব্যবহার করে নিরাপদে পাচার করা হচ্ছে কোটি টাকার ইয়াবা।

কক্সবাজারে গত ১ দিনের ব্যবধানে ৫ লাখ ১৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আটক হয়েছে চার রোহিঙ্গাসহ ছয় জন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সময়ে বিজিবি, র‍্যাব এবং যৌথ চেকপোস্টে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-এর সিপিসি-২ হোয়াইক্যং ক্যাম্পের ইনচার্জ (এএসপি) শাহ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খবর আসে বালুখালী ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বাড়িতে ইয়াবা মজুত রয়েছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৮টার দিকে আমরা সেখানে অভিযানে গিয়ে মৃত জাহিদ হোসনের ছেলে কলিম উল্লাহ (৪২) এবং তার ছেলে কেফায়ত উল্লাহকে (৩২) আটক করি। কিন্তু আটককৃতরা অস্বীকার করায় ইয়াবার সন্ধান পেতে বেগ পেতে হচ্ছিল। এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে দুটি বাড়ির মধ্যখানে মাটি খুঁঁড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার এবং অন্য আরেকটি স্থান থেকে আরো ১ লাখ ৩৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে আটককৃতরা স্বীকার করেন, এসব ইয়াবা তাদের স্বজনরা রেখে গেছেন। এ সময় জব্দ করা হয় মিয়ানমারের ২৮ হাজার কিয়াটও। এ ঘটনায় মামলা করে ইয়াবাসহ তাদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

অপরদিকে র‍্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আব্দুল্লাহ মো. শেখ সাদী বলেন, একই দিন রাত ১২টার দিকে কক্সবাজারের লিংক রোড এলাকা থেকে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে আরো দুই রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৫। তাদের হাতে থাকা শপিং ব্যাগ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলো—উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১২-এর এইচ ব্লক-৪-এর বাসিন্দা মো. সাদেক (১৯) এবং ক্যাম্প ১৩-এর বি-১ ব্লকের বাসিন্দা ফয়সাল (১৯)।

অন্যদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা বিজিবির যৌথ চেকপোস্টে একটি কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগে চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে কাভার্ড ভ্যান। শুক্রবার সকালে ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো—নোয়াখালীর শরিফ উল্লাহ (২৫) এবং ভোলার সাদ্দাম হোসেন (৩১)। এ ঘটনায় মামলা করে রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের।

আবার, ৩৪ বিজিবির একটি টিম শুক্রবার বেলা ২টার দিকে উখিয়ার একটি পাহাড়ে লুকানো অবস্থায় আরো ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। সন্ধ্যার দিকে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানান, শুক্রবার বেলা ২টার দিকে ৩৪ বিজিবির আওতাধীন রেজু আমতলীর দুই কিলোমিটার পশ্চিমে করইবনিয়া নামক স্থানে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা লুকিয়ে রেখেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৬ কার্টুনে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর থেকে সারা দেশে সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। গত বছর আমরা তালিকাভুক্ত অনেক ছোট বড় মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। এবছরও মাদক নির্মুলের জন্য অধিদপ্তরের ওপর চাপ বেড়েছে। ঘন ঘন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতীতের সব সময়ের চেয়ে বর্তমানে মাদকের মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। সারা দেশের সকল গোয়েন্দারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নতুন আইন নিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, আগে আইনের সীমাবদ্ধতা থাকায় মাদক মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা যেত না। আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে তারা জামিন নিয়ে বের হয়ে যেত। কিন্তু নতুন আইনে শাস্তি বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আশা করছি এই আইনের মাধ্যমে মাদকের ছড়াছড়ি কমানো সম্ভব হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন