আমার মা জীবন ভিক্ষা চান নাই, তিনি জীবন দিয়ে গেছেন: প্রধানমন্ত্রী

pm 523242
❏ রবিবার, আগস্ট ৮, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংসার সামলানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতেও সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৮ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন’ ও ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পদক-২০২১ প্রদান’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

ওই সময় মায়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৫ আগস্ট মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও…যখন কেউ মৃত্যুর সামনে দাঁড়ায় তখন জীবন ভিক্ষা চায়, কিন্তু আমার মা ভিক্ষা চান নাই। তিনি জীবন দিয়ে গেছেন।

‘আব্বাকে (বঙ্গবন্ধু) হত্যা করেছে যখন দেখলেন, তখন বললেন আমাকেও মেরে ফেলো। ঘাতকের বন্দুক গর্জে উঠেছিল। সেখানেই মাকে হত্যা করে। কতটা সাহস একটা মানুষের থাকে। জীবনের ভিক্ষা না নিয়ে তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন।’

১৫ আগস্ট কেন এই হত্যাকাণ্ড চালানো হলো তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী অপরাধ ছিল আমার বাবার, আমার মায়ের, আমার ভাইয়েদের?’

মায়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমার মা কখনো সামনে আসেননি। কখনো মিডিয়ার সামনে আসেননি। নীরবে থেকে বাবাকে প্রেরণা দিয়ে গেছেন। তার নীরব সাক্ষী আমি।

‘মায়ের সাথে বয়সের তফাৎ বেশি না। ১৭-১৮ বছর পার্থক্য হবে। মায়ের সবচেয়ে কাছের এবং সুখ-দুঃখের সাথী ছিলাম আমি। তার ধৈর্য-সাহস এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে যথেষ্ট অবদান রেখেছে।’

বঙ্গমাতার সাদাসিধে জীবনের কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘স্বামীর কাছে মানুষের অনেক চাহিদা থাকে। কিন্তু মায়ের কখনো বাবার কাছে চাহিদা ছিল না। বলতেন, সংসারের কথা ভাবতে হবে না। দেশের কথা চিন্তা করো। বাবা কারাগারে গিয়েছেন। মা সেখানেও তাকে প্রেরণা দিয়েছেন।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন