• আজ শুক্রবার, ২ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

রোহিঙ্গা শিবিরে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান শুরু

রোহিঙ্গা শিবিরে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান শুরু
❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ১০, ২০২১ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সকাল দশ টা থেকে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রথম দফায় ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে ৪৮ হাজার রোহিঙ্গাকে ৫৬টি কেন্দ্রে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি একই সময়ে ক্যাম্পের মাঝি, মসজিদের ইমাম এবং ভ্যাকসিনেসন কাজে নিয়োজিত ১৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবকদেরও ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ দৌজা নয়ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ দৌজা নয়ন জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫৬টি কেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে।

প্রথম দফায় ৫৫ বছরের বেশি প্রায় ৪৮ হাজার রোহিঙ্গাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যাম্পে ভ্যাকসিন কার্যক্রমে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক, ক্যাম্পের মাঝি, মসজিদের ইমাম সহ প্রায় ১৮ হাজার জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

এতে প্রথম দফায় এ ৬৬ হাজার জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। ভ্যাকসিন কার্যক্রমে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৮৬টি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ দৌজা নয়ন।

কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিসের প্রধান স্বাস্থ্য সমম্বয়ক ডা. আবু ত্বোহা বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫৬টি কেন্দ্রের মাধ্যমে আজ সকাল ৯ টা থেকে রোহিঙ্গাদের করোনা টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। টিকা প্রদান কার্যক্রমে সরকারী বেসরকারী মিলে ৫৮ টি টিম কাজ করছেন।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ৫৫ বছরের উর্ধ্বের বয়স্ক রোহিঙ্গাদের শুরুতে এ টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। এদের পাশাপাশি একই সময়ে ক্যাম্পের মাঝি, মসজিদের ইমাম এবং টিকাদান কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদেরও টিকাদান শুরু হয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এর মধ্য ১৯ হাজার ২৯৭ জনের জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে তার মধ্যে ২ হাজার ৬৫৪ জন শরণার্থী। এখন পর্যন্ত জেলায় ২০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য ২৯ জন রোহিঙ্গা ছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে অন্তত ৭ লাখের বেশী রোহিঙ্গা। নতুন পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে। যার মধ্যে কয়েক দফায় ১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর জানান, কক্সবাজারে ২২৮টি টিকাদান কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সব সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন