শতভাগ যাত্রী নিয়ে সড়কে চলছে গণপরিবহন, খুলল দোকানপাট

bus 5234
❏ বুধবার, আগস্ট ১১, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ রোধে চার মাসের বিধিনিষেধ শেষে বুধবার থেকে শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলতে শুরু করেছে গণপরিবহন। বাস, ট্রেন, লঞ্চ চলাচল শুরুর পাশাপাশি খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট-শপিং মল।

দীর্ঘ লকডাউন শেষে খুলেছে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস। বুধবার সকালেই অফিসগামী মানুষের ব্যস্ততা দেখা গেছে।

বুধবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট ঘুরে দেখা গেছে, লকডাউন শিথিলের প্রথম দিনের সকালেই রাজধানী প্রায় চিরচেনা রূপে ফিরে এসেছে। বিভিন্ন রাস্তাঘাটে রিকশা, সাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান গাড়ি, কাভার্ডভ্যান, ছোট-বড় বাস, জিপগাড়ি ও মাইক্রোবাসসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে।

লকডাউনের কারণে এতদিন অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাটে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের অনেকটা নির্বিকার সময় কাটলেও আজ ভোর থেকেই বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়। সকালের দিকে সরকারি-বেসরকারি অফিসগামীদের ভিড় থাকায় বেশ কয়েকটি রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ট্রাফিক পুলিশকে ব্যতিব্যস্ত হয়ে যানজট সামাল দিতে দেখা যায়।

এদিকে, স্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলেছেন- জীবন ও জীবিকার তাগিদে লকডাউন শিথিল করা হলেও করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু কমাতে শতভাগ মাস্ক পরিধানসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, বাইরে বের হওয়া অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক থাকলেও সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করছেন না। কেউ কেউ আবার রাস্তার মোড়ে আড্ডা দিচ্ছেন, সিগারেট টানছেন। বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ মুখে মাস্ক পরিধান না করেই বসে আছেন।

এদিকে অর্ধেক গণপরিবহন সড়কে নামিয়ে তাতে শতভাগ যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গতকাল মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মোট পরিবহনের অর্ধেক চলাচল করবে। প্রতিটি জেলায় স্থানীয় প্রশাসন অর্ধেক বাস চলাচলের সংখ্যা ঠিক করবে, দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। দুই আসনে এক যাত্রী এবং ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির বিধানও থাকছে না। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের ভাড়ায় ফিরে যাচ্ছে গণপরিবহন।

তবে রাস্তায় অর্ধেক গাড়ি চলাচল নির্ণয় করা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি বলেছেন, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ীতবে, মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চলাচল করবে। এক্ষেত্রে এক মালিকের কয়টি গাড়ি আছে বা কতটি গাড়ি চালাচ্ছে দেশব্যাপী এ বিষয়টি নির্ণয় করা একদিকে যেমন কঠিন হবে অন্যদিকে শ্রমিকরাও বেকার থাকবে। সেইসাথে মালিকরাও ব্যবসায়িকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অর্ধেক গাড়ি চলাচল করলে পরিবহন সংকট দেখা দেবে এবং যাত্রীর চাপ বাড়বে উল্লেখ করে, পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন এতে করে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। এসব দিক বিবেচনা করে মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চলাচলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সব গাড়ি চলাচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

করোনা সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে গত ১ জুলাই থেকে বিধিনিষেধ শুরু হয়। তবে ঈদ উপলক্ষে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবারও বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। পরে তা আরেক দফা বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়।