কথায় কথায় তারা জড়িয়ে পড়ে সংষর্ষে! গত ১বছরে ৫টি সংঘর্ষে ১৫টি মামলা

গোপালগঞ্জ কোটালিপাড়া
❏ শনিবার, আগস্ট ১৪, ২০২১ ঢাকা

মেহেদি হাসনাত, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, সহনশীলতা-সহমর্মিতা তাদের কাছে উপেক্ষিত। তাদের মাঝে নেই কোন প্রকারের ভীতি বা আতঙ্ক। কথায় কথায় তারা জড়িয়ে পড়েন সংঘর্ষে।

ভাংচুর করেন এক পক্ষ অপর পক্ষের বাড়ি ঘর। চালায় লুটপাট। এমন অবস্থা বিরাজ করছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের বর্ষাপাড়া গ্রামে।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১বছরে বর্ষাপাড়া গ্রামে ৫টি সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে কোটালীপাড়া থানা ও আদালতে ১৫টি মামলা হয়েছে। আসামী হয়েছেন উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক মানুষ। ৫টি সংঘর্ষের ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন প্রায় ১০ ব্যক্তি। এই সংঘর্ষ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কেও হারমানিয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার অনেক প্রবীন ব্যক্তি।

জানাগেছে, এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বদিউজ্জামান বিশ্বাসের সাথে মামুনুর রশীদ সিকদারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে চলতি বছরের মে মাসে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই সংষর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ১০জন গুরুতর আহত হয়। ভাংচুর করা হয় ৩০টি বসতঘর। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে কোটালীপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এই মামলায় মামুনুর রশীদ সিকদারের লোকজন গ্রেফতারের ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। গত বুধবার (১১ আগস্ট) মামুনুর রশীদ সিকদারের লোকজন আদালত থেকে জামিনে এসে প্রতিপক্ষ মুনসুর আলী মোল্লা, নিজামুল হক মোল্লা, সরফত হোসেন মোল্লা, মোশারফ হোসেন মোল্লা, মহর শেখ,রাজা শেখ, নাজমুল শেখের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বদিউজ্জামান বিশ্বাস।

তিনি বলেন, গত ১ বছরে ৫বার মামুনুর রশীদ সিকদারের লোকজন আমার ভাই ব্রাদার ও আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। মেরে আহত করেছে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে। এ ঘটনাগুলোতে আমাদের পক্ষ থেকে কোটালীপাড়া থানা ও আদালতে ৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় এরা জামিনে এসে গত বুধবার আমাদের লোকজনদের উপর ব্যাপক তান্ডবলীলা চালিয়েছে।

মুনসুর আলী মোল্লার স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, কোন কারণ ছাড়াই মামুনের লোকজন আমাদের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। হামলাকারীরা আমাদের জীবনযাপনের জন্য কিছুই রেখে যায়নি। এ ঘটনায় আমরা কোটালীপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।

এ বিষয়ে মামুনুর রশীদ সিকদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বদিউজ্জামানের লোকজন আমাদের লোকজনের উপর বিভিন্ন সময়ে হামলা চালিয়েছে। তাদের এই হামলায় সেলিম গাজী (৩৫), কালু গাজী (২৮), তোতা বিশ্বাস(৭০)সহ প্রায় ১০জন পঙ্গু হয়েছেন। এ ঘটনায় আমরা কোটালীপাড়া থানায় একটি ও আদালতে ৬টি মামলা দায়ের করেছি।

এলাকার প্রবীন ব্যক্তি আইয়ুব আলী গাজী (৮৫) বলেন, গত ২বছর ধরে আমাদের এলাকায় যে ভাবে হামলা মামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে তা আমি পূর্বে কখনোই দেখিনি। এলাকার মানুষদের মাঝ থেকে এখন শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, সহনশীলতা-সহমর্মিতা উঠে গেছে।

আরেক প্রবীন ব্যক্তি সেকেন্দার বিশ্বাস(৮০) বলেন, এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্রে করে প্রতিনিয়ত যেভাবে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে তা যেন স্বাধীনতা সংগ্রামকেও হার মানায়। আমরা এধরণের ঘটনা দেখতে চাই না। আমরা মরার আগে এলাকায় শান্তি দেখে যেতে চাই।

তোতা বিশ্বাস (৭০) বলেন, দু’পক্ষের মারামারিতে আমি পঙ্গু হয়েছি। আমি চাইনা আমার মতো এই গ্রামে আর কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করুক।

এলাকার ইউপি সদস্য লায়েকুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, এই দুই পক্ষের বিরোধ নিস্পত্তির জন্য কোটালীপাড়া উপজেলার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়েছে। শালিস বৈঠকের কিছুদিন যেতে না যেতেই এরা আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আমরা এই বিরোধের নিস্পত্তি চাই। আমরা চাই এলাকার মানুষ সুখে শান্তিতে মিলেমিশে বসবাস করুক।

কোটালীপাড়া থানার ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, গত মে মাসে আমি এই থানায় যোগদান করেছি। যোগদানের কয়েকদিন পরেই বর্ষাপাড়া গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দু’পক্ষ কোটালীপাড়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। গত বুধবার আবার দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন