• আজ মঙ্গলবার, ৬ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

লামা থানায় তদন্তকারী কর্মকর্তা বিরোদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলন
❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ১৭, ২০২১ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

লামা প্রতিনিধি,(বান্দরবান):

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ফিল্মি স্টাইলে লামা বাজারে জনসম্মুখে দফায় দফায় আব্দুর রহিম নামে এক যুবককে মারধর করে টমটম গাড়িতে করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া ঘটনায়

বাদীর লামা থানায় দায়ের করা এজাহার পরিবর্তন করে মামলা রুজু করায় লামা থানার উপ- পরিদর্শক(এসআই) মোঃ আশ্রাফুল আলমের বিরোদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাদী জান্নাতুল ফেরদৌস। সোমবার বিকাল ৫টার সময় লামা প্রস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেল করেন।

লিখিত বক্তব্যে জানায়, লামা বাজার চৌরাস্তা মোড়ে রোববার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের সময় আমার স্বামী আব্দুর রহিমকে মারধর করে টমটম গাড়িতে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশ বেলা আড়াইটার দিকে লামামুখ হাইস্কুলের মাঠ থেকে গুরুতর আহত মুমূর্ষ ওই যুবক আব্দুর রহিমকে উদ্ধার করে।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী উচ্ছৃঙ্খল দুই যুবক ও সহযোগী টমটম ড্রাইভার সহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। বাকী হামলাকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

আহত আব্দুর রহিম(৩৭) লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ছাহ্লাখইন হেডম্যান পাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে।

আটক হামলাকারীরা হল, লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড হাসপাতাল পাড়ার কবির হোসেনের ছেলে মোঃ কাউছার (২০), উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বালুচর পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে মোঃ বেলাল (২১) ও লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড হাসপাতাল পাড়ার টমটম ড্রাইভার মোঃ বেলাল (৪৫)। হামলা কারীর সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন যুবক বলে জানান।

এদিকে আহত আব্দু রহিমকে পুলিশ লামা হাসপাতালে নিয়ে আসে। আহতের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় ১৫আগষ্ট লামা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভিকটিমের স্ত্রী জান্নতুল ফেরদৌস। তিনি অভিযোগ করেন, থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে যাওয়া পরও থানার এস আই মোঃ আস্রাফুল ইসলাম বাদী জান্নাতুল ফেরদৌসকে ধমক দিয়ে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়।

এ ছাড়া জান্নতুলের গায়ে হাত দেয় বলে অভিযোগ করেন। গত১৫ তারিখের ঘটনার পূর্বে ১১আগষ্ট প্রথম ঘটনার দুই পক্ষ লামা থানায় অভিযোগ দেয়। সেই অভিযোগের থানায় বৈঠকের তারিখ ছিলো রবিবার বিকাল ৩টায়। উক্ত বৈঠকে যাওয়ার জন্য আমার স্বামী আব্দুর রহিমসহ বাড়ী থেকে আসছিলাম।

আমরা লামা বাজারে আসার সাথে সাথে বিবাদীরা পথ রুদ্ধ করে মারধর করে গাড়িতে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় লামা থানার এসআই মোঃ আশ্রাফুল আলম আমার থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া কাগজে আসামীদের রক্ষা করার জন্য প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মামলা দায়ে করেন।

থানায় রুজু করা মামলায় যে অভিযোগ তা আমার নয়। আমার অভিযোগ আমি লিখিত ভাবে দিয়েছি। আমার অভিযোগটি মামলা রুজু হয়নি। এ ছাড়া উক্ত এসআই আমার জাতীয় আইডি কার্ডটিও নিয়ে নেয়।

তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীকে রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বালুচর পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে মোঃ বেলাল (২০), লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড হাসপাতাল পাড়ার কবির হোসেনের ছেলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও লামা থানার ৮টি মামলার দাগী আসামী মোঃ কাউছার (২০),

বালুচর পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে মোঃ রুবেল (২৮), মোঃ হেলাল (২৩), একই এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ জাহের (২৭), মোঃ সোহেল (২৪), মোঃ ইমন (২৩), মোঃ জাকের (২১),

আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ আলমগীর (২৫), লামামুখ এলাকার মোঃ হারুণ এর ছেলে আজমির (১৭) সহ ১৫থেকে ২০ জন যুবক মারধর করে। বর্তমানে আমার স্বামী কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

এ ব্যাপারে লামা থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ আশ্রাফ আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে বাদী আমার বিরোদ্ধে যে সব অভিযোগ করেছে তা আদৌ সত্য নয়। বাদী জান্নতুল ফেরদৌস যে অভিযোগ থানায় করেছে তা হুবাহু মামলায় রুজু করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের ভিডিও আছে।

আরও পড়ুন :

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন