• আজ মঙ্গলবার, ৬ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

রামুতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব, হুমকিতে ফসলি জমিসহ দুটি গ্রাম!

Cox's Bazar news
❏ বুধবার, আগস্ট ১৮, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে মহোৎসব চলছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে। বর্ষা, শীত, কিংবা বসন্ত সব মৌসুমে বাঁকখালী নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। এতে নদীর সাথে ভাঙনের শিকার হচ্ছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি, বসত বাড়ি, গ্রাম রক্ষা বাঁধ ও সিসি ব্লক। হুমকিতে রয়েছে হাজারও বসত বাড়ি, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ রয়েছে, স্থাননীয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীসহ সব মহলকে ম্যানেজ করে অনেকটা দাপটের সঙ্গেই লুটের এই মহোৎসবে মেতেছেন প্রভাবশালী বালুদস্যুরা। অনেকটা নির্বিঘ্নেই দিনে-রাতে সমানতালে ড্রেজার দিয়ে চলছে ফসলি জমির বুক চিরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এতে করে শতশত হেক্টর কৃষি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে কমতে শুরু করেছে খাদ্য উদ্বৃত্ত।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করায় প্রতি বছর বন্যার সময় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হলেও তথাকথিত উন্নয়ন কাজের বুলি তুলে এসব কর্মকাণ্ড চালায় বালু খেকোরা। অবৈধ ড্রেজার মালিকদের বালুগ্রাসী ভূমিকায় অতিষ্ঠ এলাকার সাধারণ মানুষ। এমনকি বালু খেকোদের হাত থেকে রেহাই পায়নি কাটিরমাথা-রাজারকুল সড়কটিও।

ভুক্তভোগীরা জানান- গত দু’বছর ধরে মিঠাছড়ি ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুধু মিয়া, হায়দার আলী, নয়াপাড়া এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী মোহাম্মদ, আদর মিয়া ও মোহাম্মদ সেলিম তারা তিন ভাইসহ একটি চক্র কাউকে তোয়াক্কা না করে ড্রামের ওপর কাঠ দিয়ে ভাসমান নৌকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রামু উপজেলার বাঁকখালী নদীর তীরের দক্ষিণ মিঠাছড়ির পশ্চিম উমখালী, নয়াপাড়া এলাকা, চাকমারকুল, রাজারকুল এলাকাসহ শতাধিক পয়েন্টে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে বালুদস্যুরা। বালু খেকোরা মিঠাছড়ি-রাজারকুল সড়কটিতে সুড়ঙ্গ করে বালু উত্তোলনের পাইপ দিয়ে অবাধে বালু বিক্রি করছেন।

এ ছাড়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির বুক চিরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ভাঙনের শিকার হচ্ছে পাশের শতশত বিঘার ফসলি জমি।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মাটি ও বালু ব্যবসায়ীরা অনুরোধ সত্ত্বেও বালু ও মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছেন। সারা দিনরাত ট্রাকে মাটি ও বালু পরিবহন করায় গ্রামীণ সড়কগুলো ধসে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আবার বালু তোলার কারণে নদের তীরবর্তী ফসলি জমি ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে।

তারা আরও বলেন, প্রভাবশালী বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার মেলেনি।

অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বাঁকখালী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় প্রতি বছর শত শত বসতবাড়ি নদ-নদীর গর্ভে গেলেও দেখার কেউ নেই। বালুদস্যু ও কথিত নেতারা নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখে কিন্তু তারা সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা কখনো চিন্তা করে না। তারা আরও বলেন, মাঝে মধ্যে প্রশাসন দায়সারা অভিযান চালিয়ে ড্রেজার বন্ধ করে যেতে না যেতেই আবারও ড্রেজার সচল করে প্রভাবশালী বালু খেকোরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী যদি নির্দিষ্ট স্থানে ড্রেজিং না করা হয়, তাহলে এটা আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। অন্যদিকে যে পরিমান ড্রেজিং করার প্রয়োজন, সে পরিমান ড্রেজিং যদি না করা হয় তাহলে সেটা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এটার প্রভাব উজানের যেসব এলাকা রয়েছে সেসব এলাকায় পড়ে।

ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে আশপাশের মানুষের বসতবাড়ী ভেঙে যায়। জমির ওপর বালি মাটি পড়ে পলিমাটি ঢেকে যায়। এভাবে এক জায়গার মাটি অন্য জায়গায় সরে গিয়ে অভিযোজন ঘটে। ফলে ওইসব অঞ্চলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল বলেন, এভাবে বালু তোলা সম্পূর্ণ অবৈধ। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন