• আজ শুক্রবার, ২ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

১৮ দিন ধরে ‘এক্স-রে’ বন্ধ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে

satkhira-hospital-
❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৯, ২০২১ খুলনা, দেশের খবর

জাহদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সরকারি এক্স-রে ফ্লিম শেষ হওয়ার অজুহাতে গত ১ আগস্ট দুপুর হতে এক্স-রে করানো হচ্ছেনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। ফলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে অসংখ্য গরীব সাধারণ রোগীদের।

এছাড়া এক্সিডেন্টসহ অন্যান্য দুর্ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা তাৎক্ষণিক এক্স-রে করাতে না পেরে হতাশ হচ্ছেন। আর এই সুযোগে শহরের বে-সরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অনেকেই আবার পড়ছেন দালালদের খপ্পরে!

সরেজমিনে বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগে যেয়ে দেখা যায়, এক্স-রে বিভাগের সামনের দেয়ালে ও জানালায় সাঁটানো আছে সাদা কাগজে লেখা বিজ্ঞপ্তি।

সেখানে লেখা আছে ‘এক্স-রে ফ্লিম না থাকায় সাময়িকভাবে এক্স-রে বন্ধ আছে।’ আর ভেতরে এক্স-রে বিভাগের ইনচার্জসহ কয়েকজন কর্মচারী বসে বসে খোঁশ গল্প করছেন। রোগীরা সেখানে এক্স-রে করাতে আসলে তাদেরকে এক্স-রে ফ্লিম নেই বলে চলে যেতে বলছেন। কবে থেকে এক্স-রে হবে এমন প্রশ্নেরও কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না তারা।

সদর উপজেলার কুশখালী এলাকা হতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে হাতের কব্জির চিকিৎসা করাতে আসা এক রোগী বলেন, আমার হাতে আঘাত লাগায় আমি সদর হাসপাতালে আসি। টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ১১৮ নং এ যেয়ে ডাঃ এআরএম মাসুম ভুঁইয়াকে দেখালে তিনি এক্স-রে করাতে বলেন। আমি সেই টিকিট নিয়ে সাড়ে ১১ টার দিকে এক্সরে বিভাগে গেলে আমাকে বলা হয় এক্স-রে ফ্লিম নেই তাই এক্স-রে হবেনা। ফ্লিম এর অভাবে আজ ১৯ দিন যাবৎ এক্স-রে হচ্ছেনা।

এরপর আমাকে জরুরি বিভাগের একজন ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বললে আমি সেখানে যাই। আমারে কাছ থেকে এক্স-রে বাবদ ৩৫০ টাকা নেয় ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সেখানে ঘন্টা দুই বসার পর এক্স-রে রিপোর্ট হাতে পাই। এক্সরে রিপোর্ট নিয়ে ফের সদর হাসপাতালের ওই চিকিৎসকের রুমে যেয়ে দেখি চিকিৎসক চলে গেছেন। আমার বাড়ি অনেক দূরে। তাহলে আমাকে এই সামান্য এক্স-রের জন্য আবার অনেক টাকা খরচ করে আগামীকাল হাসপাতালে আসা লাগবে। সদর হাসপাতালে যদি এক্স-রে হতো তাহলে আমাকে আর এতো ভোগান্তি পোহাতে হতোনা। আমার মতো শতশত রোগী আজ এক্স-রে না করিয়ে ফিরে গেছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এক্স-রে বিভাগের ইনচার্জ বলেন, ১ আগস্ট দুপুর থেকে ফ্লিম শেষ। তাই এক্সরে হচ্ছে না। আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ফ্লিম সরবরাহ করলেই আবার এক্স-রে শুরু হবে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হোসাইন শাফায়াত বলেন, ফ্লিম শেষ হয়ে গেছে। আমরা ফ্লিম চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই ফ্লিম চলে আসবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন