• আজ বুধবার, ১২ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

ভাঙা ঘরের ওপর একচালা টিন দিয়েই অনিতার বসবাস, খোঁজ রাখেনা কেউ

news52
❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৯, ২০২১ খুলনা

জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ভেঙে গিয়েছিল স্বামীর রেখে যাওয়া কাঁচা ঘরটি। সেই ঘরটি আজও মেরামত করতে পারেননি অনিতা দেবনাথ। ভাঙা ঘরের ওপর একচালা টিন দিয়েই এক বছর ধরে বসবাস করছেন। কোনো মতো খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করলেও ঘর মেরামতে এগিয়ে আসেননি কেউ।

ঘরের ছাউনি নেই, বারান্দায় টিনের ছাউনি, পলিথিনের বেড়া, ভাঙাচোরা বেড়ার বারান্দায় বিধবা অনিতার সংসার। শোবার ঘরের দেয়াল নেই। কাদামাটির ঘরে সাপ, ব্যাঙ আর কেঁচোর সঙ্গে নিত্য যুদ্ধ। কাদামাটির ঘরটি দেখলে যেকারো চোখে পানি চলে আসবে।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুর্নবাসনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জমি ও ঘর উপহার দিলেও অনিতার কপালে জোটেনি সরকারি ঘর।

সাতক্ষীরা তালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জেয়ালা নলতা গ্রামে মৃত সুকুমার দেবনাথ (মনু)’র স্ত্রী অনিতা দেবনাথ (৫০)। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অভাব-অনাটনের মধ্য দিয়ে সংসার চলতো তাদের। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অনিতার স্বামী মারা গেছে চার বছর আগে। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অনিতার পাশের বাড়ির শিক্ষক মাসুদ পারভেজ বলেন, অনেকদিন ধরে অনিতার ঘরের অবস্থা এরকম দেখলে চোখে পানি চলে আসে। সবাই আশ্বাস দেন কিন্তু অনিতার কপালে জোটেনি সরকারী অনুদান। অর্ধাহারে, অনাহারে বাড়ীর বারান্দায় প্রতিবেশীদের লাঞ্চনা গঞ্জনা শুনে দিন রাত অতিবাহিত করেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘর পানিতে থই থই করে। সেই পানি চলে আসে বারান্দায়। তখন সেখানে বসবাস করা দুরহ হয়ে পড়ে। অনিতার চোখে নেই রঙ্গিন স্বপ্ন। চাই একটু নির্ভরতা ও মাথা গোঁজার ঠাঁই। জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে মানবেতর জীবনযাপন কাটাছে। স্বামীর হাতে তৈরি করা ঘরটি আম্ফান ঝড়ে লন্ড ভন্ড করে দিয়ে গেছে। সেই থেকে কাদামাটির মধ্যে বসবাস করছে সে। তার কাছে ঘর মেরামত করার মতো অর্থ নেই। এমনকি সরকারি কোন অনুদানও পান না তিনি। দু’বেলা দু মুঠো খাবারের সন্ধান করতে গিয়ে ঘর মেরামত করার চিন্তা ভুলেই গেছে।

কান্নাজড়িতকণ্ঠে অনিতা বলেন, লোক মারফত জানতে পেরেছি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, মানবতার মা শেখ হাসিনা জমি ও ঘর উপহার দিচ্ছেন। ইউএনও স্যারের মাধ্যমে বহু মানুষ ইতিমধ্যে জমি ও ঘর পেয়েছেন। তারা সেখানে বসবাস করছেন। আর আমি ঘরের অভাবে মানবেতর জীবণ যাপন করছি। আমি অনেকের কাছে বলেছি কিন্তু কেউ আমার দুঃখ কষ্ট বোঝেনি। আমি একজন অসহায় গৃহহীন মানুষ, তাই ইউএনও স্যারের মাধ্যমে মানবতার মা শেখ হাসিনার কাছে মাথা গুজার ঠাঁই চাই। তা না হলে খোলা আকাশের নীচে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন বলেন, তার ১ বিঘা জমি আছে এজন্য তাকে ভূমিহীন ঘর দেওয়া হয়নি। তবে জমি থাকলেও ঘর করতে না পারাদের জন্য ঘর বরাদ্দ আসলে তার জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া তার ঘর সংস্কারের জন্য আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন জানিয়েছি। টিন পেলে তাকে প্রদান করা হবে।