• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

শরীয়তপু‌রে কাগজপ‌ত্র জা‌লিয়া‌তি ক‌রে অ‌তি‌রিক্ত জ‌মি রেজিস্ট্রি করার অ‌ভি‌যোগ


❏ শুক্রবার, আগস্ট ২০, ২০২১ Uncategorized

নয়ন দাস, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর সদর উপ‌জেলার পালং ৬০নং মৌজায় জ‌মির মালিকানায় সম্প‌ত্তির প‌রিমানের চে‌য়েও জা‌লিয়া‌তির মাধ্য‌মে অ‌তি‌রিক্ত জ‌মি রেজিস্ট্রি করার অ‌ভি‌যোগ পাওয়া গে‌ছে।

জ‌মির মা‌লিকানা প‌রিবর্ত‌নের ক্ষে‌ত্রে স‌ঠিক কাগজপত্র যাচাইবাচাই করার নিয়ম থাক‌লেও অ‌নিয়‌মের অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে সং‌শ্লিষ্ট দ‌লিল লেখক ও সাব-‌রে‌জিষ্টারের বিরু‌দ্ধে। এ‌তে হয়রা‌নির শিকার হ‌চ্ছে প্রকৃত জ‌মির মা‌লি‌কগণ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৭ আগষ্ট) জেলা রে‌জিষ্টার কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর লি‌খিত অ‌ভি‌যোগ ক‌রে‌ছে এব ভুক্তভুগী। য‌দিও অ‌তি‌রিক্ত জ‌মি হস্তান্তরের বিষ‌য়টি ভুলবসত হ‌য়ে‌ছে সাব-‌রে‌জিষ্টার দাবি কর‌লেও তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা রে‌জিষ্টা‌র কর্মকর্তার।

পালং ইউ‌নিয়ন ভূ‌মি অ‌ফিস ও অ‌ভি‌যোগ সূ‌ত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই পালং ৬০নং মৌজার ৯৫০ নং দা‌গের ১৫.৮১ শতাংশ জ‌মি সদর উপ‌জেলা দ‌লিল লেখক স‌মি‌তির সভাপ‌তি মো. নরুল হক মিয়ার মাধ্যমে একটি আম‌মোক্তার নামা দলিল (দলিল নম্বর- ৩১৬৫) রেজিস্ট্রি করা হয়। আম‌মোক্তার নামা দ‌লি‌ল দাতা শরীয়তপুর পৌরসভার নিরালা এলাকার মৃত কানাই লাল ব‌ণি‌কের ছে‌লে প‌রি‌তোষ ব‌ণিক গং ও আম‌মোক্তা নামা গ্র‌হীতা একই এলাকার জান শরীফ বেপারীর ছে‌লে ম‌নির হো‌সেন বেপারী‌ এবং দলিল লেখক মো. নুরুল হক মিয়ার পরস্পর যোগসাজসে এসএ খতিয়ান এবং খাজনা রশিদ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য গোপন করে দলিল লেখক মো. নুরুল হক মিয়াকে দিয়ে দলিলটি রেজিস্ট্রি করান।

মূলত ৯৫০ নং দা‌গে প‌রি‌তোষ ব‌ণি‌কের সর্ব‌শেষ নামজা‌রি, খাজনার র‌শিদ অনুযায়ী জ‌মির প‌রিমান র‌য়ে‌ছে ৯.৭৫ শতাংশ। কিন্তু দ‌লিল লেখক মো. নুরুল হক মিয়া ও সদর (ভারপ্রাপ্ত) সাব-‌রে‌জিষ্টার মো. জা‌হিদ হাচা‌ন বিরু‌দ্ধে অ‌বৈধ উপা‌য়ে জ‌মি হস্তান্তর অভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে ১৫.৮১ শতাংশ। কাগজপত্র ও মা‌লিকানার চে‌য়ে অ‌তি‌রিক্ত ৬.০৬ শতাংশ সম্প‌ত্তি বে‌শি হস্তান্তরের ঘটনায় বিপা‌কে প‌ড়ে‌ছে পা‌শের দা‌গের জ‌মির মা‌লিকরা।

এ ঘটনায় প্র‌তিকার চে‌য়ে জেলা রে‌জিষ্টার কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাস‌কের বরাবর লি‌খিত অ‌ভি‌যোগ দা‌য়ের ক‌রে‌ছে এক ভুক্তভুগী।

অ‌ভি‌যোগকারী রতন কুমার ব‌ণিক ব‌লেন, বর্তমা‌নে জ‌মির মূল্য বৃ‌দ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কিছু ভূ‌মিদস্যুরা অ‌বৈধ উপা‌য়ে প্রভাব খা‌টি‌য়ে সাধারন মানুষ‌কে হয়রা‌নি কর‌ছে। গত ১৯জুলাই সদর রে‌জিষ্টা‌রের মাধ্য‌মে প‌রি‌তোষ ব‌ণিক তার মা‌লিকানার চে‌য়ে ৬.০৬ শতাংশ সম্প‌ত্তি বে‌শি হস্তান্তর ক‌রে‌ছে। একজন দা‌য়িত্বশীল অ‌ফিসার কিভা‌বে কাগজপত্র যাচাইবাচাই না ক‌রে অ‌তি‌রিক্ত জ‌মি হস্তান্তর কর‌লেন? এ‌তে ক‌রে আমরা পা‌শের অং‌শিদাররা হয়রা‌নির মু‌খে প‌ড়ে‌ছি। প্রভাবশালী‌দের চা‌পের মু‌খে আমা‌দের বাপ-দাদার সম্প‌ত্তি এখন বেদখল হ‌তে চল‌ছে। আমা‌দের সম্প‌ত্তি বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০লক্ষ টাকা।

নাম প্রকাশে অ‌নিচ্ছুক ক‌য়েকজন ভুক্তভুগী ব‌লেন, প‌রি‌তোষ ব‌ণি‌কের মা‌লিকানার চে‌য়ে অ‌তি‌রিক্ত সোয়া দুই শতাংশ বে‌শি বি‌ক্রি করায়, অামরা খ‌রিদকৃত ভুক্তভুগীগণ দীর্ঘ‌দিন যাবৎ যার যার ক্রয়কৃত সম্প‌ত্তির দখল বুঝ‌তে গি‌য়ে বি‌রোধ সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে। এখন আবারও অ‌তি‌রিক্ত জ‌মি প্রভাবশালী‌দের কা‌ছে বিক্রি ক‌রে সমা‌জে শা‌ন্তি বিন‌ষ্টের প‌রি‌বেশ তৈ‌রি ক‌রেছে।

উক্ত জ‌মির প‌রিমান ও মা‌লিকানা সম্প‌র্কে জান‌তে চাই‌লে পালং ইউ‌নিয়ন ভু‌মি সহকা‌রী কর্মকর্তা মো. জু‌য়েল ব‌লেন, পালং ৬০নং মৌজার ৯৫০ নং দা‌গের সর্ব‌শেষ নামজা‌রি অনুযায়ী প‌রিতোষ ব‌ণিক গং এর মা‌লিকানায় জ‌মির প‌রিমান র‌য়ে‌ছে ৯.৭৫ শতাংশ। এর‌চে‌য়ে বে‌শি জ‌মি ৯৫০নং দা‌গে নেই। কিভা‌বে অ‌তি‌রিক্ত জ‌মি বি‌ক্রি ক‌রে‌ছে কিনা সেটা তারা বল‌তে পার‌বে।

আম‌মোক্তা নামা দ‌লি‌ল দাতা প‌রি‌তোষ ব‌ণিকের সা‌থে বারবার যোগা‌যোগ করা হ‌লেও তা‌কে পাওয়া যায়‌নি।

শরীয়তপুর সদর উপ‌জেলা দ‌লিল লেখক স‌মি‌তির সভাপ‌তি মো. নুরুল হক মিয়া ব‌লেন, নিয়‌মের বা‌হি‌রে গি‌য়ে কোন কিছু করা হয়‌নি। কাগজপত্র না দে‌খে কিছু বলা যা‌বে।

সদর উপ‌জেলা অ‌তি‌রিক্ত দা‌য়িত্ব পালন করা জা‌জিরা উপ‌জেলা সাব-‌রে‌জিষ্টার ‌মো. জা‌হিদ হাসান ভুল স্বীকার ক‌রে ব‌লেন, আমা‌দের দ‌লি‌লের অ‌নেক চাপ থা‌কে, এরজন্য দ‌লিল লেখকরা বে‌শির ভাগ কাগজপত্র যাচাইবাচাই ক‌রে আমা‌দের কা‌ছে জমা দি‌লে আমরাও কাগজপত্র দে‌খে জমি রে‌জিষ্টার ক‌রে থা‌কি। কিভা‌বে এরকম একটা ভুল হ‌লো সেটা বুঝ‌তে পার‌ছি না। জ‌মির মা‌লিকানা হস্তান্তরের প‌রে সেটা বা‌তি‌লের ক্ষমতা আদালত ছাড়া কা‌রো নাই। তাই ভুক্তভুগী‌দের আদাল‌তের মামলা করার পরামর্শ দেন সাব-‌রে‌জিষ্টার অ‌ফিসার।

এ‌বিষ‌য়ে জেলা রে‌জিষ্টার কর্মকর্তা অমৃত লাল মজুমদার ব‌লেন, একজন সাব-‌রে‌জিষ্টার অ‌ফিসা‌রের একটা গুরুত্বপূর্ণ দা‌য়িত্ব পালন ক‌রে থা‌কে। সেই দা‌য়ি‌ত্বে থাকা অ‌ফিসা‌রের একটা ভু‌লে সাধারণ মানুষ অ‌নেক ক্ষ‌তির হ‌তে পা‌রে। আমি ক‌রোনা ভাইরা‌সে আক্রন্ত হওয়ায় চি‌কিৎসাধীন র‌য়ে‌ছে। আগামী সপ্তা‌হে য‌দি সুস্থ্য হয়ে অ‌ফি‌সে যা‌বো। এরপর তদন্তপূর্বক প্র‌য়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌বে। এ‌তে কাউ‌কে ছাড় দেওয়া হ‌বে না ব‌লেও আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন