🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

টাঙ্গাইলে নির্মাণের দুই মাসেই ৭০ লাখ টাকার সড়কে ধস!

Tangail Basail Roads Picture
❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৬, ২০২১ ঢাকা

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলের বাসাইলে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের দুই মাস যেতে না যেতেই বিভিন্নস্থানে ধসে পড়েছে। উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের হালুয়া পাড়া-কর্মকার পাড়া সড়কের এমন দশার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে দিকেই আঙ্গুল তুলছে সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনা এড়াতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। অল্প দিনেই ধসে যাওয়ায় উপজেলা বাসীর আলোচনার বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে রাস্তাটি । এদিকে সড়ক ধসে যাওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিলও আটকে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলার কাঞ্চনপুর হালুয়াপাড়া সেতু এলাকা থেকে কর্মকারপাড়া সেত পর্যন্ত সড়কটির মাটি ভরাটসহ পাকাকরণের জন্য দরপত্র আহবান করে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ৯শ’ ৫০ মিটার এই সড়ক নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স নাইস এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ায় কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা করতে ব্যর্থ হয়।

পরে ২০২১ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে কাজটি শেষ করে। ওই সময় সড়কে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে কয়েক দফা কাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয়রা। পরে জনপ্রতিনিধিদের হস্থক্ষেপে স্থানীয়দের সাথে সমঝোতা করে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়দের কথা তোয়াক্কা না করেই নিন্ম মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শেষ করে। পাকাকরণের দুই মাসেই সড়কের দুইপাশের বিভিন্নস্থানে ধসে গেছে। দিন যাচ্ছে আর ক্রমেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের তীব্রতা দৃশ্যমান হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদার খরচ কমাতে মাটির পরিবর্তে ট্যাফে ট্রাকট্ররের মাধ্যমে বালি ব্যবহার করেছেন। রাস্তার সোল্ডারের জন্য ৩ ফিট মাটি ধরা থাকলেও একফিট সোল্ডারও করা হয়নি। সাফবেইস, ম্যাকাডামেও নিন্মমানের কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সড়কে বালু ভরাটের সঙ্গে সঙ্গেই পাকাকরণের কাজ চালিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। রোলার দিয়েও পিটানো হয়নি সড়কটি।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আব্দুর রহমান বলেন, ‘একদিক দিয়ে বালু ফেলেছে আরেক দিক দিয়ে পাকাকরণের কাজ করেছে। সাইটে মাটি না ফেলেই তারা পাকাকরণের কাজ শেষ করেছে। আগলা মাটির মধ্যে পাকা করায় সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। ওই সময় প্রকৌশলী এসে কাজ বন্ধ করেছিল। পরে আবার কাজ চালু করে। আমরা বাঁধা দিয়েছিলাম কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোক কোনও কথা শুনেনি। এখন সড়ক বাঁশ দিয়ে ঠিকায় রেখেছে। পুরো সড়কটির দুইপাশেই ভেঙে গেছে।’

কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ খান বলেন, ‘ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কের সাইটে মাটিগুলো সঠিকভাবে দেয়নি। এ ছাড়া কনফেকশনও ভালভাবে করেনি, রোলারও মারেনি। একদিকে মাটি ফেলেছে আরেক দিক দিয়ে পাকা করেছে। বালি মাটি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে গেছে।’

মেসার্স নাইস এন্টার প্রাইজের কর্ণধার নাইস মিয়া বলেন, ‘সড়ক নির্মানে কোন প্রকার অনিয়ম হয়নি। সঠিকভাবেই কাজটি শেষ করা হয়েছে। বালু মাটির উপর কার্পেটিং করায় বৃষ্টির কারণে ধসে পড়েছে। কাজের পর এক বছর পর্যন্ত সড়কে কোনও ক্ষতি হলে আমরা আবার ঠিক করে দিই। এই সড়কটিও বর্ষার শেষে আমরা ঠিক করে দেবো।’

এ বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘৯শ’ ৫০ মিটার সড়কে মাটি ভরাট ও পাকাকরণের কাজ পায় মেসার্স নাইস এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সড়ক ধসে পড়ার বিষয়টি জানতে পেরে আমরা সড়কটি পরিদর্শন করেছি। আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ২২ লাখ টাকার বিল আটকে দিয়েছি। বর্ষার শেষে তারা নতুন করে মাটি ফেলে কাজটি করে দিবে। কাজ সন্তোষ জনক হলে পরে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হবে।’