🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ১৪ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

পুরুষের স্পার্ম দ্বারা গর্ভধারণ না করাটাই এখন আধুনিকতা : তসলিমা নাসরিন

talima-523
❏ শনিবার, আগস্ট ২৮, ২০২১ মুক্তমত

মুক্তমত ডেস্ক- টালিউড অভিনেত্রী ও সাংসদ নুসরাত জাহান মা হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) কলকাতার পার্কস্ট্রিটের একটি হাসপাতালে ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। এ খবরে নুসরাতের ভক্ত ও শুভাকাঙ্খীদের মনে বয়ে যাচ্ছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের জোয়ার।

তবে সমালোচনা হচ্ছে একটু বেশিই। কেননা তার এই সন্তানের পিতৃপরিচয় এখনো রয়েছে ধোঁয়াশায়। ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানটির বাবা নুসরাতের বর্তমান প্রেমিক যশ দাশগুপ্ত। তবে তারা কেউই এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।

এদিকে কেবল মাতৃপরিচয়ে সন্তান জন্ম দেয়ায় নুসরাতের প্রশংসা করেছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি কথোপকথন আকারে বিষয়টি নিয়ে নিজের অভিমত তুলে ধরেছেন।

বিষয়টি নিয়ে আজ শুক্রবার (২৭ আগস্ট) বিকালে ফেসবুকে তসলিমা নাসরিন বলেছেন, ভয়ংকর পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের বাচ্চা নেওয়া, সে বিনা বিবাহে হোক, বয়ফ্রেন্ডের ঔরসে হোক, খুব বড় কোনও প্রগতিশীলতা নয়।

‘আসলে পুরুষের স্পার্ম দ্বারা গর্ভধারণ না করাটাই, সন্তান জন্ম না দেওয়াটাই এই সমাজের জন্য, এই সময়ের জন্য, সবচেয়ে উপযুক্ত আধুনিকতা এবং প্রগতিশীলতা। ’

তসলিমা নাসরিনের স্ট্যাটাসটি নজর২৪-এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

“পশ্চিমবঙ্গের এক সেলেব্রিটি সুন্দরী নায়িকা, অনুমান করা হচ্ছে যে, বয়ফ্রেন্ডের সন্তান গর্ভে ধারণ করেছিল এবং সেই সন্তান গতকাল প্রসব করেছে। বয়ফ্রেন্ড স্বামীর মতো তার পাশে পাশে আছে। নায়িকার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলে, তার সন্তানকে স্বাগত জানালে এখন তড়িঘড়ি প্রগতিশীল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে মানুষ। আপারক্লাস এবং রিচ সোসাইটিতে এ বড় কোনও সমস্যা নয়। আপারক্লাস এবং রিচ সোসাইটিতে হিন্দু-মুসলমানের সম্পর্কও বড় কোনও সমস্যা নয়। সমস্যা মধ্যবিত্ত সমাজে। নিম্নবিত্ত সমাজেও সমস্যা।

হতদরিদ্রদের মধ্যে এ আবার কোনও সমস্যা নয়। অট্টালিকাবাসী এবং হোমলেসরা মোটামুটি একই রকম স্বাধীনতা অথবা থোড়াই কেয়ার করা ভোগ করে। যে মধ্যবিত্তরা আজ সেলেব্রিটির নবজাতককে স্বাগত জানাচ্ছে তাদের অনেকেই হয়তো বিনা ওয়েডলকে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নবাজাতককে স্বাগত জানাবে না বা পড়শির কোনও নবজাতককে স্বাগত জানাবে না, বা পুরুষটি মুসলমান হলে মেয়েটি হিন্দু হলে স্বাগত জানাবে না।

সমাজ থেকে তো কুসংস্কার, পুরুষতন্ত্র, সাম্প্রদায়িতা বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

সেলেব্রিটির জীবন আর যা কিছুই হোক সমাজের আয়না নয়। সমাজের আয়না কারা তা আমরা একেবারে জানি না তা নয়।

যারা সমাজের ভয়ে জরায়ুর ভেতরে বড় হতে থাকা ভ্রূণকে যে কোনও উপায়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দূর করে, গর্ভপাত ঘটায়, তারা।

ডাস্টবিনে অনেক মৃত অথবা জীবন্ত শিশুকে পাই, সমাজের ভয়ে যারা গোপনে প্রসব করে রাতের অন্ধকারে গোপনে ফেলে রেখে যায়, তারা। অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য সারাজীবন যারা লাঞ্ছিত হয়, ধিকৃত হয়।

ভয়ংকর পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের বাচ্চা নেওয়া, সে বিনা বিবাহে হোক, বয়ফ্রেন্ডের ঔরসে হোক, খুব বড় কোনও প্রগতিশীলতা নয়।

আসলে পুরুষের স্পার্ম দ্বারা গর্ভধারণ না করাটাই, সন্তান জন্ম না দেওয়াটাই এই সমাজের জন্য, এই সময়ের জন্য, সবচেয়ে উপযুক্ত আধুনিকতা এবং প্রগতিশীলতা।”

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন