🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ রবিবার, ১১ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

প্রবাসে মানবসেবায় মির্জা ফখরুলের জ্যেষ্ঠ কন্যা শামারুহ’র অনন্য অর্জন!

মির্জা শামারুহ
❏ শনিবার, আগস্ট ২৮, ২০২১ প্রজন্মের ভাবনা, প্রবাসের কথা, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকাঃ অস্ট্রেলিয়ায় বহুভাষী সম্প্রদায়ের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ কন্যা মির্জা শামারুহ।

তার এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের জন্য এবিসি ক্যানবেরা রেডিও কতৃক কমিউনিটি স্প্রীট এওয়ার্ডস এর ফিনালিস্ট তালিকায় রয়েছেন তিনি।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ এ চুড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হবে উল্লেখ করে রেডিও এবিসি ক্যানবেরা তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছেন,

Shamaruh is a Multicultural Community Champion finalist for ABC Canberra’s Community Spirit Awards — winners will be announced on Thursday 9 September 2021!

‘সিতারা’স স্টোরি’ নামের একটি অলাভজনক সংগঠনের ব্যানারে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের শুরুটা হয়েছিলো বাংলাদেশে কিশোরীদের সাহায্য করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুবাদে এর কার্যক্রম সেখানেই বিস্তৃতি লাভ করে শামারুর হাত ধরে।

মুলতঃ নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে কাজ করে ‘সিতারা’স স্টোরি’, তবে সম্প্রতি এই কর্মসূচিতে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে ।

কিভাবে তাঁর সংগঠন ‘সিতারা’স স্টোরি’ বহুভাষী সম্প্রদায়ের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন সেসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি এসবিএস বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি ।

ডঃ শামারুহ মির্জা বলেন, ‘সিতারা’স স্টোরি’ অস্ট্রেলিয়ান সরকারের বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় কাজ করে থাকে যার মধ্যে আছে নারীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য এবং কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন মানসিক স্বাস্থ্য।

তিনি জানান, অভিবাসীরা নারীরা বিশেষ করে যারা নতুন এসেছেন তারা ভাষা ও সংস্কৃতিগত বাধার কারণে মানসিক চাপে ভোগেন এমন অভিবাসীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেসব সুবিধাগুলো আছে সেই তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে তার সংগঠনটি।

তিনি বলেন, ভাষাগত সমস্যার কারণে অভিবাসী নারীরা একাকিত্ব বোধ করে, কারো সাথে মেলামেশা করতে পারে না এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়। এছাড়া সাংস্কৃতিক কারণে তাদের মানসিক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে লজ্জাবোধ করে।

“কালচারাল ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে তারা অনেক সময় স্টিগমায় ভোগে এবং কোন সরকারি সহায়তা তারা নেয় না। তাছাড়া তারা যে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য সেই তথ্যগুলোই তাদের কাছে নেই।”

ডঃ মির্জা বলেন, নারী-পুরুষ উভয় অভিবাসীদেরকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ শুরু করেছেন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় ক্যানবেরায় পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের তারা আর্থিক সাহায্য দিতে চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।

মুলতঃ ‘সিতারা’স স্টোরি’র শুরুটা হয়েছিলো বাংলাদেশে কিশোরীদের সাহায্য করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে। এ প্রসঙ্গে ডঃ শামারুহ মির্জা বলেন তারা বাংলাদেশে সুবিধাবঞ্চিত এবং কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন মানসিক সমস্যা দূর করার লক্ষে ইনোভেটিভ অয়েল বিয়িং ফাউন্ডেশনের মুনিরা রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহায়তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

শামারুহ জানান, “গত দু’বছরে আমরা প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার কাজটি করেছি, যার মাধ্যমে দু’হাজারের মত শিক্ষার্থী, এক হাজারের মত শিক্ষক এবং অভিভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি।”

তিনি বলেন, আমরা তাদের সবাইকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে ‘মেন্টাল হেলথ ইজ আ সিরিয়াস ইস্যু’, শারীরিক স্বাস্থ্যের মত মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও আপনাকে যত্নবান হতে হবে।

ডঃ মির্জা জানান তারা গত ফেব্রুয়ারী থেকে তারা একটি কর্মসূচি শুরু করেছেন যার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবীদের ‘মেন্টাল হেলথ এডুকেটর ভলান্টিয়ার ট্রেনিং’ দিচ্ছেন যাতে তাদের কার্যক্রমে নিজ কমুনিটির স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুলের দুই মেয়ের মধ্যে বড় শামারুহ। সাবেক অধ্যাপক মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী-সন্তানকে নিয়ে আছেন। শামারুহ বর্তমানে একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত আছেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন