🕓 সংবাদ শিরোনাম

সংক্রমণ বাড়লে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ: শিক্ষামন্ত্রীশরীয়তপু‌রে বে‌পরোয়া কিশোর গ্যাং, হাত বাড়া‌লেই মিল‌ছে মাদক!বিএনপির কোনো পরিকল্পনা সার্থক হবে না: শাজাহান খানকর্ণফুলীতে ধান ক্ষেত থেকে রিক্সা চালকের লাশ উদ্ধারঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হবে ২০২৬ সালেমালয়েশিয়ায় গার্মেন্টস কারখানার বাংলাদেশী মালিকসহ ৪৫ জন রিমান্ডে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন কার্যক্রম উদ্বোধনসংকুচিত হচ্ছে বনাঞ্চল: টেকনাফে ফের বন্য হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যুদেশে বিনিয়োগ করুন: প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীকরোনা ও উপসর্গে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে মৃত্যু ৯

  • আজ শনিবার, ১০ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

সিঙ্গাপুর, ব্যাংককের আদলে হবে কক্সবাজার : প্রধানমন্ত্রী


❏ রবিবার, আগস্ট ২৯, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- কক্সবাজারকে ঘিরে নানা স্বপ্ন দেখতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি নানা পরিকল্পনা করেছিলেন। ঝাউবন স্থাপন করেছেন। তার রেখে যাওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। সে পরিকল্পনারই অংশ কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রাসরণ।

রোববার (২৯ আগস্ট) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। সিঙ্গাপুর, ব্যাংককের আদলে সাজানো হবে কক্সবাজারকে। ইকোট্যুরিজমের কাজ চলমান রয়েছে, রেললাইনও আসছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে দিন-রাত ফ্লাইট চলবে। এসব দৃশ্যমান হলেই কক্সবাজার বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের পরের সরকার বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করত। যার কারণে কক্সবাজারকে ঘিরে তারা কিছুই করেনি। বরং তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সেখান থেকে নতুন করে কক্সবাজারকে ঘিরে পরিকল্পনা হাতে নেই। আস্তে আস্তে সবই দৃশ্যমান হচ্ছে।

কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন শহর করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়ক। এটিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। রেললাইনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও পৌঁছে গেছে। এসব পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে কক্সবাজার- যেমনটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বালুকাময় সমুদ্রসৈকতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ‘স্পেশাল জোন’ করা হবে। যেখানে শুধু বিদেশিরা আসতে ও যেতে পারবেন। তারা যেন তাদের মতো করে সবকিছু উপভোগ করতে পারেন সে ব্যবস্থা করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়নে অনেক চিন্তা-পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, আর কক্সবাজার নিয়েতো আরও বেশি। কক্সবাজার হবে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সি-বিচ, পর্যটন কেন্দ্র এবং অত্যান্ত আধুনিক শহর। সেভাবেই পুরো কক্সবাজার শহরকে উন্নত-সমৃদ্ধ করবো।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এটি হবে দেশের বিমানবন্দরগুলোর সবচেয়ে বড় রানওয়ে। রানওয়ের ৭০০ ফুট থাকবে সমুদ্রের মধ্যে। প্রায় ১৭০০ ফুট সমুদ্রপৃষ্ঠ ভরাট করে কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়েকে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, দেশে প্রথমবারের মত সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপর নির্মিতব্য এ রানওয়ের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যার পুরোটাই অর্থায়ন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এটিই হবে দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে। বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হলে কক্সবাজারের পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চীনের দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চাংজিয়াং ইচাং ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো (সিওয়াইডব্লিউসিবি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন-জেভি যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

শনিবার (২৮ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মো. মফিদুর রহমান সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করতে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ট ভরাট করে এ কাজটি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিমানবন্দরকে ঘিরে তৈরি হবে এভিয়েশন হাব। বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে যেন এখানে বিমান নামতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিমানবন্দরের আগের রানওয়ে ছিল ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট, সেখান থেকে ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করা হয়। এ কাজ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে এ বিমানবন্দরের রানওয়ে ১২ হাজার ফুটে উন্নীত করা হবে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ১৭০০ ফুট ভরাট করে রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানো হচ্ছে। বিশ্বের অনেক আধুনিক দেশ এটি করতে পারেনি। জাপান, চীন, কোরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে এটি সম্ভব হয়নি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেল ভরাট করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এটি হয়ে গেলে ৭৭৭,৭৪৭ সহ আরও বড় পরিসরের বিমান দিন রাত এখানে অবতরণ করতে পারবে।

জানা গেছে, রোববার প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রান্তের অনুষ্ঠানে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার দুপুরে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার বিমান বন্দরে পৌঁছান।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন