উজানের ঢলে ৩০ গ্রাম প্লাবিত, ফসল নিয়ে চিন্তিত কৃষক

Mymensing news
❏ সোমবার, আগস্ট ৩০, ২০২১ ময়মনসিংহ

কামরুজ্জামান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টার: টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩৭০ হেক্টর জমির আমন ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার (২৫ আগস্ট) বিকেল থেকে টানা বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢল শুরু হয়। আর এতেই ধোবাউড়া উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের ভারুকাপাড়া, বল্লভপুর, জরিপাপাড়া, রায়পুর, চকপাড়া, লাঙ্গলজোড়া, আংগড়াকান্দা, পাতাম, মদনপুর, গবিনপুর, বেতগাছিয়া, বহভিটা, ঘোষঁগাও, গলইভাঙা গ্রাম এবং ঘোষগাঁও ইউনিয়নের ভালুকাপাড়া গ্রাম, পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামসহ অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এসব গ্রামগুলোতে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পানি গড়াচ্ছে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। এভাবে বৃষ্টি আর উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশংকা করছেন তারা।

ভালুকাপাড়া গ্রামের কৃষক আহাম্মদ আলী বলেন, ১১ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করছিলাম। হঠাৎ পানিতে সব তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে চারা পঁচে নষ্ট হবে। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

গলইভাঙা গ্রামের মাছ চাষি শামীম আহমেদ বলেন, প্রথমদিনের বৃষ্টিতে ভেবেছিলাম মাঝেমধ্যে একটু পানি বাড়লে মাছ চাষের জন্য ভালো। তবে, অল্প সময়ের মধ্যেই হু হু করে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করে। আমার কয়েকটি পুকুর থেকে বহু মাছ পানিতে ভেসে গেছে। দুই দফা বন্যায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গামারীতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান বলেন, আগের বন্যায় উপজেলার কয়েকটি স্থানে নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়। বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে এসব ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারদের সহায়তা করা হবে।

এছাড়া হালুয়াঘাটের ভুবনকুড়া, গাজীরভিটা, নড়াইল, কৈচাপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ফসলী জমি, মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। উপজেলাটির ২৫০ হেক্টর আমন ধানের জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

ভুবনকুড়া ইউনিয়নের সামাদ মিয়া, ফরিদ মিয়া ও আফজাল নামে কয়েকজন কৃষক জানান, আগের বন্যার মতো এবারও বন্যা হলে আর ঘুরে দাড়াতে পারবেন না। কারণ এবার তারা ধারদেনা করে ফসল ফলাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। এজন্য চিন্তিত তারা।

ধোবাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার তুষার বলেন, পানিতে অন্তত ১২০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। পানি না কমলে কৃষক চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ২৫০ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হলেও ফসলের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হবেনা। কারণ কয়েকদিন বৃষ্টি না হলেই পানি ধীরে ধীরে কমে যাবে।

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফিকুজ্জামান সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, প্লাবিত গ্রামগুলোর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। তবে বড় কোনো ক্ষতি এখনও হয়নি।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে, ইতিমধ্যে পানি কমতে শুরু করেছে। এজন্য এ উপজেলায় এবার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা কম।

এর আগে চলতি বছরের গত জুলাইয়ের শুরুতে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে জেলার ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটায়। ঘরবাড়ি, রাস্তা ও বাঁধের এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুন :
Jamalpur new বাড়ি ভিটার জমির জন্য মরলেন দুই ভাই

❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

Mymensing news ঘুষ লেনদেন, এএসআই প্রত্যাহার

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন