• আজ বুধবার, ১২ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

মাগুরায় পাকা ঘরের মেঝেতে দাফন করা সেই ব্যক্তির লাশ উত্তোলন; গোরস্থানে দাফন

lash 785914
❏ সোমবার, আগস্ট ৩০, ২০২১ খুলনা

মতিন রহমান, মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা সদরের পৌর এলাকায় এক ব্যক্তি মৃত্যুর পর পাকা বাসভবনের মেঝের উপর কবর দেওয়ার ঘটনা নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড শুরু হয়। মৃত ব্যক্তির নাম তৈয়ব আলী মোল্যা (৭৫)। তার মৃত্যুর ৮ দিন পরে সোমবার (৩০ আগষ্ট) ১১টার দিকে মাগুরা পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলামের নির্দেশে পাকা ঘর খুড় হয়। এরপর এলাকাবাসীর সহযোগীতায় মৃত্যু ব্যক্তির লাশ স্থানীয় কাশিনাথপুর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

মৃত তৈয়ব আলীর বাড়ি মাগুরা জেলা সদরের পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিনাথপুর গ্রামের। তিনি ওই গ্রামের মৃত আরজু মোল্যার ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, ওই মৃত্যু ব্যাক্তির কবর ঘিরে মাজার বানানোর পাঁয়তারা চলছিল। ওই বাড়িতে বিভিন্ন জেলার কয়েকজন মাজার অনুসারী লোকজনকে দেখতে পায় এলাকাবাসী।

মৃতের স্বজন ও প্রতিবেশিরা জানান, তৈয়ব আলী মোল্যা গত রোববার (২২ অগাস্ট) দুপুর দুইটার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে বাড়িতে মারা যান। তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী একতলা বসত ঘরের মেঝেতে গোপনে লাশ দাফন করা হয়। তিনি অজ্ঞাত কোনো ভিন্নমতাবলম্বী আধ্যাত্মিক ব্যক্তির অনুসারী ও ভক্ত ছিলেন বলে তারা জানান।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তৈয়ব আলী মোল্যা অবিবাহিত ছিলেন। একটানা ৩০ বছর তিনি নিরুদ্দেশ ছিলেন। এক বছর আগে তিনি শহরের ছোট ভাই কাশেম আলীর বাড়িতে আসেন। তিনি সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতেন না। মিশতেন না। নিজ হাতে বাড়িতে দুই কক্ষের একটি ভবন তৈরি করেন। একটি কক্ষের জানালা রয়েছে। আরেকটি কক্ষের দরজা থাকলেও কোনো জানালা নেই। লাশ দাফন শেষে ওই রুমের দরজা ইট গেঁথে প্লাস্টার করে বাইরে থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মুত্যুর পর তাকে পাশের কক্ষের কংক্রিটের মেঝের উপর স্বজনদের কবর দিতে বলেন। মৃত্যুর পর স্বজনরা গোপনে কবর দেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

সোমবার (৩০ অগাস্ট) কাশিনাথপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তৈয়ব আলীর ঘরের সামনে উৎসুক লোকজন ভিড় করছেন। দুই রুমের একটি কক্ষের মেঝেতে কবর দেওয়া হয়েছে তাকে। মেঝেতে মরদেহের চারপাশে ইটের দশ-ইঞ্চি প্রশস্থ ইটের গাঁথুনি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এরপর ঢালাই করে উপরের অংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তার বেশ কয়েকজন অনুসারী ও ভক্ত বর্তমানে অবস্থান করছেন।

তাদের একজনে আমজাদ আলী। বাড়ি, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায়। তিনি বলেন, ‘ঘরের মধ্যে লাশ দাফন নতুন কিছু নয়। অতীতে অনেকেরই লাশ ঘরের মধ্যে দাফন করা হয়েছে।’

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। তাকে বাইরে কবরস্থানে দাফন করার দাবি জানান এলাকার লোকজন। কিন্তু তৈয়ব আলীর স্বজনেরা লাশ নতুন করে বাইরে দাফন না করতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। এতে এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে।

সুজন শেখ, কামাল হোসেনসহ পাঁচজন প্রতিবেশী এই প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি এলাকায় দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইসলামের বিধি-বিধান মেনে গোসল ও জানাজার পর লাশ গোরস্থানে দাফনের জন্য ব্যবস্থা নিতে তারা দাবি জানিয়েছিলেন।

মৃতের ছোটভাই কাশেম আলী মোল্যা জানান, বড় ভাই (তৈয়ব) মৃত্যুর আগে নিজ হাতে ঘর ও ঘরের মধ্যে কবর তৈরি করে গেছেন। তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী লাশ ঘরের মধ্যে দাফন করা হয়েছিল।

মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদিন বলেন, গতকাল রোববার রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে লাশ গোরস্থানে দাফনের নির্দেশ দিয়েছিলাম। পরে আজ পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশে পাকা ঘরের মেঝে থেকে লাশটি বের করা হয়। এলাকাবাসীর সহযোগিতা ওই লাশটি স্থানীয় গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।