• আজ শুক্রবার, ২ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

শেরপুরে সাঈদ ‘হত্যা’: অবশেষে কবর থেকে ওঠানো হলো লাশ


❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ ময়মনসিংহ

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: পরিবারের সংবাদ সম্মেলনের পরদিনই কবর থেকে ওঠানো হলো মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদের লাশ। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় লাশ ডেপুটি নেজারত কালেক্টর (এসডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তার ওই লাশ উত্তোলন করা হয়।

নিহত আবু সাঈদ (৩০) শেরপুর সদর উপজেলার গাজীরখামার ইউনিয়নের শালচূড়া গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাঈদের বন্ধু (আসামি) মো. আতিক মিয়া (৩০), জাকির (২৮), তরিকুল ইসলাম (৩০), ডা. সোয়েব (২৭), শারমীন সুলতানা ডেইজি (২৫), জুলি (৩২), মো. আলীম মিয়া (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় নির্মমভাবে সাঈদকে হত্যা করে। পরে ওই হত্যাকান্ডকে সুকৌশলে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয় তারা।

ঘটনার দিন তারা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি না করে তাকে অনেক দেরি করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাঈদকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সাঈদের বন্ধুরা তার লাশ বিনা ময়না তদন্তে দাফনের জন্য তাড়াহুড়ো করেন। তখনই ওই বিষয়গুলো নিয়ে সাঈদের পরিবারের সন্দেহ শুরু হয়। একপর্যায়ে মামলা তুলে নিতে সাঈদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ওই ঘটনার পর সাঈদের পরিবার লাশের ময়না তদন্তের দাবি জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় একরাল মিয়া বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ছিল। কারণ, একই এলাকার মৃত কুদ্রত আলীর মেয়ে শারমিন সুলতানা ডেইজির সঙ্গে সাঈদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি শারমিনের আত্মীয়স্বজন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। এরপর তারা বিভিন্ন সময় আবু সাঈদকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুন রাতে সাঈদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। পরবর্তী সময়ে সেটিকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়।

সাঈদের চাচা খাইরুল ইসলাম বলেন, সাঈদের জানাজার আগে তার মরদেহ আমি গোসল করিয়েছি। সাঈদের শরীরের কোথাও কোনো আঘাত ছিল না। মাথার আঘাত দেখে আমার যেটা মনে হয়েছে। তাকে কোনো ভারি হাতুড়ি বা রড দিয়ে পেছন থেকে আঘাত করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবেল মিয়া বলেন, মরদেহ উত্তোলনের সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। এছাড়া নিহত সাঈদের পরিবারের পক্ষে তার বোন তানজিলা কবর ও মরদেহ শনাক্তে সহযোগিতা করেছেন।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে কবর থেকে আবু সাঈদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এরপর মরদেহের ময়না তদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট এলে আদালত সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন :
Jamalpur new বাড়ি ভিটার জমির জন্য মরলেন দুই ভাই

❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

Mymensing news ঘুষ লেনদেন, এএসআই প্রত্যাহার

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন