• আজ শুক্রবার, ২ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

যমুনায় পানি বৃদ্ধিতে বগুড়ার নিম্নাঞ্চলে বন্যা

waternwwn2
❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: উজানের পাহাড়ী ঢলে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বগুড়ার তিন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের লোকালয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।

বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এই বন্যা অল্প কয়েকদিন স্থায়ী হবে এবং পানি নেমে যাবে। জেলায় সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো বড় ধরণের কোন ক্ষতির সম্মুুখিন হয়নি। পাউবোর সকল কর্মকর্তারা মাঠে নেমে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর ২৬ আগস্ট থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতি বছর বন্যায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। বিশেষ করে গ্রামীণসড়ক, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ক্ষতি হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমের বন্যায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা ১৬.৭০ মিটার এর স্থলে এখন পানি প্রবাহিত হচ্ছে ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। যমুনা নদীর পাশাপাশি বাঙালি নদীর পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার, নাগর নদীর পানি ৯১ সেন্টিমিটার এবং করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ২০৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে এবং যমুনার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার ৫৬টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর, চালুয়াবাড়ী, কাজলা, কর্ণিবাড়ী, কামালপুর, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, বোহাইল, সদর, নারচী, ফুলবাড়ী, ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে এবং সোনাতলার মধুপুর, পাকুল্যা ও তেকানি চুকাইনগরে পানি প্রবেশ করেছে। এ কারণে সারিয়াকান্দি উপজেলার বন্যায় আক্রান্ত ইউনিয়নগুলোর ৯ হাজার ৫০০ পরিবার এবং সোনাতলার ১ হাজার ৬৫০ পরিবার মিলে দুই উপজেলায় ১১ হাজার ১৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অপরদিকে পাহাড়ী ঢলে ধুনট উপজেলায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর কূল উপচে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্বদিকের লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। স্থানীয়রা জানান, ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পাশ দিয়ে বহমান যমুনা নদী। এ নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে এবং কূল উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অভ্যন্তরে (পূর্বদিকে) ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের পুকুরিয়া, ভুতবাড়ি, কৈয়াগাড়ি, মাধবডাঙ্গা, রঘুনাথপুর, ভান্ডারবাড়ি, দক্ষিন শহড়াবাড়ি, বানিয়াজান ও শিমুলবাড়ি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের বাড়ির আনাচে-কানাচে থৈ থৈ করছে পানি। আবার কিছু কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে এবং রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। বসতবাড়িতে পানিতে ডুবে যাওয়ার কারনে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। কেউ আবার সমতলে ফিরে গেছে স্বজনদের কাছে।

সারিয়াকান্দি কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলার ৯০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল এখন পানিতে নিমজ্জিত। এরমধ্যে ৫৫ হেক্টর চাষকৃত মাসকালাই জমির মধ্যে ১০ হেক্টর, ৭ হেক্টর সবজি, ১০ হাজার ১২০ হেক্টর এর মধ্যে ৬৪ হেক্টর রোপা আমন, ১৭০ হেক্টর এর মধ্যে ৮ হেক্টর নাবী জাতের রোপা আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। এ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৮ শত ৬৭ জন।

এ প্রসঙ্গে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাসেল মিয়া জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা হিসেবে চাল এবং নগদ অর্থ বিতরণ শুরু করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল জানান, যমুনার কূল উপচে পানি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে এসে ঠেকেছে। তার ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের কমপক্ষে ৫’শ পরিবারের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। তবে, এখনও মানুষের জীবনযাপন স্বাভাবিক রয়েছে। বানভাসিদের জন্য ৯ মেট্রিক টন চাল মজুদ রয়েছে। প্রয়োজনে প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এ সব চাল বিতরণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও পরিমান খুবই কম। তাছাড়া ১ সেপ্টেম্বর (বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে বন্যার আশংকা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বন্যা মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতি মহুর্তে যমুনা নদীর বাঁধ পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম জানান, আমরা সব সময় বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ খবর রাখছি। বন্যাপ্রবণ উপজেলা সারিয়াকান্দি, ধুনট এবং সোনাতলায় পানি বাড়ার আগেই ৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সারিয়াকান্দিতে ৩০ টন এবং বাকী দুই উপজেলায় ২০ টন করে দেওয়া আছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার জন্য আরো কিছু বরাদ্দ দুই এক দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন