গাইবান্ধায় হাঁসের খামারে দারিদ্র জয়ের গল্প

Gaibandha news
❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২১ রংপুর

রবিউল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি: দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত এক দম্পতি আবু তালেব ও লাকি বেগম। বিয়ের পর থেকে স্বামীর দিনমজুরির টাকায় কোনোমতে চলে আসছিল তাদের দেড় যুগের সংসার। দাম্পত্য বা পারিবারিক জীবনে চাওয়া-পাওয়া দূরে থাক, দুই ছেলে-মেয়ের মুখে ভাল খাবার তুলে দিতে পারতেন না তারা। অবশেষে হাঁসের খামার করে দারিদ্রকে জয় করেছেন এই দম্পতি।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরিহরিণমাড়ী গ্রামের নিজ বাড়িতে স্ত্রীর সহযোগিতায় আবু তালেব গড়ে তুলেছেন স্বপ্নের হাঁসের খামার।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) কথা হয় আবু তালেবের সঙ্গে।তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকেই অন্যের জমিতে কাজ করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম। সবসময় ভাবতাম কি করে এই কষ্ট-সংকীর্ণ জীবন থেকে মুক্তি মিলবে।

স্থানীয় এক খামারির পরামর্শে এক বছর আগে জেলার সুন্দরগঞ্জ থেকে ক্যাম্বেল জাতের ২০টি হাঁসের বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করি। প্রতিটি হাঁস কিনেছিলাম ৩৫ টাকা দরে। চার মাস পর হাঁসগুলো ডিম দিতে শুরু করে।এরপর ডিম বিক্রির টাকা জমিয়ে আরো হাঁসের বাচ্চা কিনতে থাকি। এভাবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আমার খামারে হাঁসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫০টি। এর মধ্যে ৩শ হাঁস নিয়মিত ডিম দিচ্ছে।

তিনি আরো জানান, প্রতিটি হাঁস টানা ৯ মাস ডিম দিয়ে থাকে। এরপর সর্বোচ্চ ১৫ দিন বিরতি দিয়ে পুনরায় ডিম দিতে শুরু করে। বর্তমানে খাদ্য ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহের পর দৈনিক ৭শ থেকে ৮শ টাকা আয় হচ্ছে।

আবু তালেবের স্ত্রী লাকি বেগম জানান, বড় ছেলে নাহিদ দশম এবং ছোট ছেলে নাইস অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। এছাড়া লুবনা নামে চার বছরের এক মেয়ে আছে আমাদের। তাদের দুবেলা পেট ভরে খাবার যোগাতে আমরা হিমশিম খেতাম তার ওপর ছেলেদের পড়াশুনার খরচ যোগাতে ধারদেনা করতে হতো। বর্তমানে হাঁসের খামার থেকে অর্জিত আয় থেকে সহজেই সন্তানদের পড়াশুনাসহ অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করতে পারছি। সেইসঙ্গে আরও বড় স্বপ্ন নিয়ে খামারটিকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, আবু তালেব-লাকি দম্পতির নিবির প্রচেষ্টায় হাঁসের খামারটি গড়ে উঠেছে। আমরা তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তাদের সফলতা দেখে অন্যরাও উন্নত জাতের হাঁস পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন।