• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

খাস জমি দখল করে অনুমোদনহীন ভবন, উচ্ছেদের দাবি স্থানীয়দের

Cox's Bazar news
❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার পূর্ব মোক্তারকুলস্থ ভাঙ্গাব্রীজ এলাকায় অবৈধ দখলে সরকারি জমি। এসব জমিতে নির্মিতও হচ্ছে অনুমোদনহীন বহুতল ভবন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় দখলকারী সহজেই এসব সরকারি জমি দখল করতে পারছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সমাজের প্রভাবশালীরা পেশিশক্তির বলে এবং রাজনৈতিক শক্তির অপব্যবহার করে সড়ক এবং নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছে নানা ধরনের দোকানপাট, প্রসাধনীর মার্কেট ও বহুতল ভবন। ফলে রাস্তা সরু হয়ে যান চলাচলে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে ব্যাপক প্রাণ ও সম্পদহানি হচ্ছে। এরপরও সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় কয়েকশ’ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি সরকারের বেহাত হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাথে লাগোয়া সওজের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের ওপর দু’তলার ছাদের কাজ শেষ করে সামনের বাউন্ডারির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। যতটুকু কাজ হয়েছে তাতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মরত শ্রমিকরা।

জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব মোক্তারকুলস্থ বাঁকখালী নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। এরা ১০টির অধিক ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ভরাট করা হচ্ছে ১নং খাস খতিয়ানের নদী সিকস্তি জায়গা। এমনকি মহাসড়কের পাশে জলাশয় ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবনও।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধভাবে বালু ভরাট করে ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে উত্তোলন করা বালু দিয়ে দখল হচ্ছে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিও। গত চারমাস ধরে সদরের ঝিলংজার ৬নং ওয়ার্ডস্থ পূর্ব মোক্তারকুল ভাঙা ব্রীজের পাশে এই অবৈধ কার্যক্রমের মহোৎসব চলছে। এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব মোক্তারকুল ভাঙা ব্রীজস্থ মহাসড়কের পাশে বিশাল একটি বহুতল ভবন নির্মাণ চলছে গত তিন মাস ধরে। একই এলাকার প্রভাবশালী ফরিদুল আলম, আজিজুল হক ও আজিজুল হাকিম মিলেমিশেই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ভরাট হওয়া নদী ও জলাশয়ের উপর বিশাল ভবনটি নির্মাণ করছে। দীর্ঘদিন ধরে পাশের বাঁকখালী নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ভরাট করা হয়েছে জলাশয়। এখনো বালু উত্তোলন করে ভরাট কাজ চলমান রয়েছে। একপাশে ভরাট চলছে অন্যপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। ভবন নির্মাণের বিষয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সেখানে নোটিশও দিয়েছে বলে জানা গেছে। নোটিশ দেওয়ার পরও বন্ধ করা হয়নি অবৈধভাবে নির্মিত ভবন। বরং নোটিশ দেওয়ার পর নির্মাণ কাজ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, বর্তমানে যেখানে বহুতল ভবণ নির্মান করা হচ্ছে ৫ বছর আগেও তা নদী ছিল। ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের মাটি এসে আস্তে আস্তে নদীটি ভরাট হয়ে নদীর পথ পরিবর্তন হয়। কিন্তু এখনো নদীর চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু লকডাউনের সুযোগে গত চার মাস আগে পাশের বাঁকখালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিশাল জলাশয়ের একাংশ ভরাট শুরু করে আজিজুল হাকিম গং। বিশাল জায়গা ভরাট করে নির্মাণ শুরু করে বহুতল ভবন। প্রায় একতলা নির্মাণ শেষে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। অনুমতি না নেওয়ায় নোটিশ দিয়ে কাজও বন্ধ করে দেন। এরপরও তারা নির্মাণ কাজ চালিয়ে এখন দুইতলা পর্যন্ত গড়িয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, আমরা চাই প্রশাসন সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দিক। এতে ভূমিহীনরা উপকৃত হবে, সরকারও রাজস্ব পাবে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি নদী সিকস্তি ১নং খাস খতিয়ানের সরকারি জমি।

এবিষয়ে ভূমির মালিক দাবীদার আজিজুল হাকিম বলেন, আমরা নিজেদের খতিয়ানভূক্ত জমিতে ভবণ নির্মাণ করে যাচ্ছি। ভরাট হওয়া নদী বা জলশায় ভরাট করা হচ্ছে না। সড়কের জমিও পড়েনি। ভবণ নির্মানের বিষয়ে ককক্সবাজার উন্নয়ন কর্তপক্ষ (কউক) এর অফিস থেকে দুই বার লোক এসেছিল। প্রথমে তিন মাস আগে একবার এসেছিল এবং কিছুদিন আগেও এসেছিল। তারা অনুমিত নেওয়ার পর কাজ করতে বলেন। তাদের কথা মতো অনুমতির জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। লকডাউনের কারণে অনুমিত হয়নি দাবী করেন তিনি। কউকের কারা গিয়েছিল দুইবার এমন প্রশ্নে তিনি কারো নাম জানা নেই বলে উত্তর দেন। এছাড়া সকল অভিযোগ অস্বীকার করলেও বাঁকখালী নদী থেকে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করেন। এক পর্যায়ে এবিষয়ে প্রতিবেদন না করারও অনুরোধ করেন তিনি। প্রতিবেদন করলে ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কাও করছেন তিনি।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (উপ সচিব) আবু জাফর রাশেদ ভবণ নির্মাণের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সংযুক্ত দাশ গুপ্তা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নদী ও জলাশয় ভরাটের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) নু- এমং মারমা মং বলেন, বাংলাবাজার বাঁকখালী নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে মেশিন জব্দ করা হয়েছিল। আবারও সেখানে অভিযান চালানো হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, বাংলাবাজার বা মুক্তারকুল বাঁকখালী নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাছাড়া ভরাট হওয়া নদী ও জলশায় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ জঘন্য অপরাধ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন