🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ১৪ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

টাঙ্গাইলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, ৮০ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন

Tangail flood
❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১ ঢাকা

তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পয়ে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । সেই সাথে ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

এতে করে টাঙ্গাইলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে । টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, ভুঞাপুর, মির্জাপুর, বাসাইল ও নাগরপুরে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে । জেলার ৬ টি উপজেলার দুইশতাধিক গ্রামের দেড় লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বানের স্রোতে রাস্তাঘাট ও ব্রিজ ভেঙে যাতায়াতে বেড়েছে দুর্ভোগ। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন রাস্তাঘাট।

বৃহস্প্রতিবার (২ সেপ্টম্বর) টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন ।

সরেজমিনে দেখা গে‌ছে, অসম‌য়ের বন্যা দেখা দেয়ায় টাঙ্গাইল সদর, ভুঞাপুর, কা‌লিহাতী, নাগরপুর, মির্জাপুর, বাসাই‌লের নিম্নাঞ্চ‌লে প্রবেশ ক‌রে‌ছে। এ‌তে আবাদ নষ্ট হওয়ার পাশাপা‌শি ত‌লি‌য়ে গে‌ছে পাঁচ শতাধিক হেক্টর ফসলি জ‌মি। পা‌নিবন্দি দেড় লাখেরও বেশি মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেখা দিয়েছে নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ। পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের খাদ্য সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন বানভাসিরা।

জেলা পা‌নি উন্নয়ন বো‌র্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, যমুনা নদী ধলেশ্বরীসহ অন‌্যান‌্য নদী‌তে ভাঙন দেখা দি‌য়ে‌ছে। প্রায় ৮০ কি‌লো‌মিটার অং‌শে নদী‌তে ভাঙন শুরু হ‌য়ে‌ছে। বন‌্যা প‌রি‌স্থি‌তির উন্ন‌তি হ‌লে ভাঙন নিরুপ‌নে কাজ শুরু করা হ‌বে।

তি‌নি আ‌রো ব‌লেন, যমুনা নদীসহ বি‌ভিন্ন নদী‌তে পা‌নি বৃ‌দ্ধি আ‌রো এক সপ্তাহ বাড়ার আশঙ্কা র‌য়ে‌ছে। এ‌তে বন‌্যার প‌রিস্থি‌তি আ‌রো অবন‌তি হ‌বে।

কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, আমার ইউনিয়নে ভাঙ্গন আর পানি এক যোগে বৃদ্ধি পাচ্ছে । বাড়ীঘরসহ যমুনা নদীর পাড়ে যে সমস্থ স্থাপনা রয়েছে সে গুলো হুমকির মধ্যে রয়েছে। ঘরবাড়ি চোখের পলকে ডেবে যাচ্ছে । এখানে পানি বন্দী মানুষ নাওয়া খাওয়া থেকে শুরু করে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে । আমার ইউনিয়নে এক্ষন এই মুহুর্তে বেশী প্রয়োজন খাবার স্যালাইনসহ শুষ্ক খাবার । তিনি আরও বলেন এই পানিবন্দী মানুষের জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষে থেকে ১ টন চাউল বরাদ্দ করা হয়েছে ।

জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, সরকারীভাবে ভাঙ্গন কবলিত কিছু কিছু এলাকায় নগদ অর্থও ত্রান সামগ্রী দেওয়া হয়েছে । কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বৈরবাড়ী গ্রামে ৫০ টি পরিবার ও গোয়ালিয়া বাড়ী ইউনিয়নের আফজালপুর গ্রামে ৫১ টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী ও প্রত্যেক পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন