• আজ শুক্রবার, ২ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

ফের ওবায়দুল কাদেরকে একগাদা হুশিয়ারীতে যা বললেন ছোট ভাই কাদের মির্জা

কাদের মির্জার হুশিয়ারী
❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকাঃ আবারও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তার সহধমির্ণী অ্যাডভোকেট ইশরাতুন্নো কাদেরকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র (ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই) আব্দুল কাদের মির্জা।

নিজের অনুসারী নাজিম উদ্দীন বাদলকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে এসব হুঁশিয়ারি দেন কাদের মির্জা। এ সময় নোয়াখালীর পুলিশ সুপারকে (এসপি) উদ্দেশ করেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসপিকে উদ্দেশ করে কাদের মির্জা বলেন, ‘কাকে ভয় দেখাস? ১৯৮২ সাল থেকে জেল খাটছি। তোর কত বড় সাহস। তোর গুন্ডা ওসিকে লাগিয়ে আজকে কোম্পানীগঞ্জে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছ।

কী করবি, গ্রেপ্তার করবি? তোর কাছে অস্ত্র আছে, আমাদের কাছে লাঠি আছে। প্রতিহত করা হবে। অস্ত্র ছেড়ে আয় দেখি কি করতে পারিস? কার হুকুমে তুই গতকাল আমার এবং আমার দুই কর্মীর ছবি এখানে ওসির কাছে পাঠিয়েছস? আমাদের গ্রেপ্তার করার জন্য, এ সাহস তোকে কে দিয়েছে? ওবায়দুল কাদের? সে তো মিথ্যুক! কথায় কথায় কসম খায় আর মিথ্যা কথা বলে।’

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারন করে তার ছোট ভাই নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে সকল তথ্য-প্রমাণ লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। জায়গা মতো পৌঁছে দিবো।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনি এমন স্ত্রী নিয়ে সংসার করেন যে আপনার মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্নীতি করে শত-কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তিনি (মন্ত্রী) যখন সিঙ্গাপুরে অসুস্থ তার চিকিৎসা খরচ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথচ তার (ওবায়দুল কাদের) স্ত্রী সিঙ্গাপুরের হোটেলে বসে মন্ত্রীকে দেখতে যাওয়া সব ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও এমপিদের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে শতকোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে।’

কাদের মির্জা তার অনুসারী নাজিম উদ্দিন বাদলকে গ্রেপ্তারের পর ক্ষিপ্ত হয়ে নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) উদ্দেশ করে বলেন, “এসপি তোর ‘গদি’ ভেঙে দেওয়া হবে। নোয়াখালী থেকে সম্মান নিয়ে যেন না যেতে পারিস সে ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রীকে প্রতি করে আক্ষেপের সূরে তিনি বলেন, ‘আমরা তো কারও আত্মীয়ও হতে পারলাম না। আমাদের অভিভাবকও নাই। আমাদের এলাকায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর মতো নেতার জন্ম হয় নাই। এটাই হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। তাই এখানকার সমস্যা আট মাসেও সমাধান হয়নি।’

প্রসঙ্গত, বড় ভাই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ দল নিয়ে ইতপুর্বেও নানা সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। এমনকি দল ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন মির্জা কাদের।

তবে চলতি বছরের ২৩ মে বেশ কয়েক মাসের দূরত্ব কাটিয়ে বড় ভাই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কাদের মির্জা শনিবার বিকালে ওবায়দুল কাদেরের সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবনে উপস্থিত হয়ে বড় ভাইয়ের হাতে ফুল দিয়ে মান-অভিমানের অবসান ঘটান।

প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এসময় দুজন একে অপরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি নোয়াখালীর স্থানীয় রাজনীতি নিয়েও কথা বলেন। কাদের মির্জার কিছু অভিযোগও উঠে আসে এই বৈঠকে।

আরও পড়ুন :

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন