হবিগঞ্জে ১০ বছরে কমেছে কৃষিজমি, চাষ বেড়েছে ৩১ শতাংশ

কমেছে কৃষিজমি
❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ দেশের খবর, সিলেট

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

হবিগঞ্জে গত ১০ বছরে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে কৃষিজমির পরিমাণ। তবে পতিত জমি চাষের আওতায় আসায় বেড়েছে কৃষির আবাদ। নতুন নতুন ফসলেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গেল ১০ বছরে হবিগঞ্জে ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ বেড়েছে। ৫০ দশমিক ৩৮ শতাংশ অনাবাদি জমি এসেছে আবাদের আওতায়।

২০০৯-১০ অর্থবছরে জেলায় ধানের আবাদ হয় ২ লাখ ৭ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আবাদ বেড়ে ছড়ায় ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে। সে হিসাবে, গেল ১০ বছরে ধানের আবাদ বেড়েছে ৪৫ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে; শতাংশে যা ২২ দশমিক ১১।

হবিগঞ্জে সাধারণত বোরো, আউশ ও আমনের চাষ হয়। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এই ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি আবাদ বেড়েছে আউশের।

২০০৯-১০ অর্থবছরে জেলায় আউশের মোট আবাদ হয় ৩১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৫২ হাজার ৫০০ হেক্টর। ১০ বছরে আউশের আবাদ বেড়েছে ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ।বোরোর আবাদ এই জেলায় ১০ বছরে বেড়েছে ১২.৪৪ শতাংশ এবং আমনের আবাদ বেড়েছে ১৬.৬৩ শতাংশ জমিতে।

চুনারুঘাট উপজেলার আসামপাড়া এলাকার কৃষক মো. সফিক মিয়া বলেন, ‘পানির অভাবের কারণে একসময় আমার অনেক জমি বছরের পর বছর পতিত থাকত। এখন ওই জমিগুলোতে আমি সবজি আর ধান দুইটাই চাষ করতেছি।’

রবি মৌসুমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শাক-সবজির আবাদও বেড়েছে জেলায়। গত ১০ বছরে সবজির চাষ ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ৩০০ হেক্টর।বানিয়াচং সদরের কৃষক মনমোহন দাশ বলেন, ‘ভাটি লাকা হওয়ার কারণে ধান চাষ ছাড়া কিছু করতাম না। কিন্তু কৃষি অফিসার কইলাম সবজিও নাকি চাষ করা যাইব। কয়েক কছর ধরে সবজি চাষ করতেছি। ভালো ফলনও পাইতাছি।’

তেল উৎপাদনকারী ফসলের মধ্যে হবিগঞ্জে একসময় শুধু সরিষার চাষ হতো। গেল দুই বছরে সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষকরা।লাখাই উপজেলার বামৈ এলাকার কৃষক মনোহর আলী বলেন, ‘আগে আমার যত জমি আছিল সব জমিত ধান লাগাইতাম। দুই বছর আগে কৃষি অফিসার আমারে কইলা সরিষা চাষ করতাম। আমি চাইছলাম না।

‘পরে তিনি জোর করার কারণে এক খের জমিত সরিষা চাষ করছি। দেখলাম ভালো লাভ হইছে। গত বছত তিনি আবার কইলা সূর্যমুখী লাগাইবার লাগি। তাইনের কথায় লাগাইয়া দেখলাম ধানের চেয়ে বেশি লাভ।’

কৃষি বিভাগের হিসাবে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সূর্যমুখী ও ভুট্টার চাষ শুরু হয় এই জেলায়। এর মধ্যে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে ৭০০ হেক্টর জমিতে এবং ভুট্টা হয়েছে ৫০০ হেক্টর জমিতে।

সব মিলিয়ে তেল উৎপাদনকারী ফসলের চাষ গেল ১০ বছরে এই জেলায় বেড়েছে ২৮৯ দশমিক ১০ শতাংশ।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ তমিজ উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, এই ১০ বছরে জেলায় অনাবাদি জমির সংখ্যা কমেছে ২৪ হাজার ১৫ হেক্টর। তবে পতিত জমিতে চাষ হওয়ায় ফসলের উৎপাদন বেড়েছে।

তিনি জানান, জেলায় ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, শাক-সবজির ২৩৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বেড়েছে ৪৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, ২০০৯-১৯ অর্থবছরে ভুট্টার উৎপাদন ছিল শূন্যের কোটায়। এই অর্থবছর পর্যন্ত উৎপাদন বেড়েছে ৪ হাজার ৪০০ টন।তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘জেলায় এখনও অনেক জমি পতিত রয়েছে।

তা ছাড়া অনেক টিলাতেও বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি ফলের চাষ করা সম্ভব। এসব জমি আবাদের আওতায় আনতে পারলে জেলায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে।

‘আমি বেকার যুবকদের অনুরোধ করব, শুধু চাকরির আশায় না ঘুরে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। তাহলে নিজের, পরিবারের ও দেশের জন্য সফলতা আনতে পারবেন।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন