🕓 সংবাদ শিরোনাম

১২ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থী পাবে ফাইজারের টিকা: স্বাস্থ্য মন্ত্রীকক্সবাজার ভ্রমনে এসে ৭ বন্ধুর দুই জনের মৃত্যু, ৪ জন আটকভোট ডাকাতির চেয়ে বড় জঙ্গি নাই: জাফরুল্লাহ চৌধুরীগোপালগঞ্জ সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহতপটুয়াখালীতে মাউশি মহাপরিচালকের সঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতবিনিময়কাকের প্রতি ‘বিরল ভালবাসা’ আত্রাইয়ের সায়মা বিবি’র১২ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হবেমুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিলেন ওবায়দুল কাদেরইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবিমালয়েশিয়ায় ৩২ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা

  • আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

মিরপুরে প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি কাউন্দিয়ার দুই লক্ষাধিক মানুষ!

news 785
❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১ ঢাকা, দেশের খবর

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- রাজধানীর মিরপুরের পার্শ্ববর্তী তুরাগ নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপখ্যাত একটি ইউনিয়ন কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ। ঢাকার অতি নিকটবর্তী সাভার উপজেলাধীন একটি ইউনিয়ন পরিষদ হলেও বর্তমানে সেটি ঢাকা-১৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত। যেখানে প্রায় দুই লক্ষাধিক বাসিন্দাদের বসবাস।

তবে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এই অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক বাসিন্দাদের বাণিজ্যিক যোগাযোগসহ রাজধানীর সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষার্থে দিয়াবাড়ি ঘাটসহ কয়েকটি খেয়াঘাট ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষার একমাত্র মাধ্যমই বৈঠাচালিত নৌকা।

অভিযোগ রয়েছে, এই বিপুল সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে দিয়াবাড়ি ঘাটে ইজারার দোহাই দিয়ে প্রতিবার খেয়া পারাপারে জনপ্রতি টোল হিসেবে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল।

সাবিনা নামের কাউন্দিয়ার স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তিনি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করেন। তবে প্রয়োজন যতবারই ঘাট পার হতে হয় ততবারই দিতে হয় টাকা। আসলে অনেক সময় আমাদের খুবই কষ্ট হয়।

আল আমিন নামে কাউন্দিয়ার অপর এক বাসিন্দা জানান, যতবারই ঘাটে খেয়া পার হই ততবারই এখানে টোলের নামে চাঁদা দিতে হয়। জনসাধারণের প্রতি এক রকম জুলুম চালানো হচ্ছে বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে এহেন সমস্যা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করবেন সেই প্রত্যাশাও করি।

চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাননা খেয়াঘাটে খেটে খাওয়া দিনমজুর মাঝিরাও। তাদেরকেও এই প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ মহলকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমান চাঁদা প্রদান করতে হয় দাবি করে একাধিক মাঝি জানালেন, ঘাট নাকি সরকারের কাছ থেইকা ডাক আনছে জহির হাজী। তাই আমাগোও ডেইলি নৌকা প্রতি ট্যাকা দেওন লাগে। কি করুম? ট্যাকা না দিলে নৌকা চালাইবার দেয়না। নৌকা চালাইতে না পারলে তো বউবেটি লইয়া না খাইয়া থাকোন লাগবো।

আব্দুল হাকিম নামে দিয়াবাড়ির স্থানীয় একজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, চিহ্নিত প্রভাবশালী মহলটি এই ঘাটটিতে প্রভাব খাটিয়ে টোলের নামে সুকৌশলে অবৈধ ও আইনবহির্ভূতভাবে প্রতিদিন এই বিপুল অংকের চাঁদা আদায় করছেন। কেও বাধা দিলেই তাকে নানাভাবে নির্যাতন এমনকি হয়রানীর শিকার হতে হয়।

অপরদিকে দিয়াবাড়ি ঘাটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভালগেট নোঙর করে মালামাল আনলোড করতেও প্রতিবার ঘাটে একেকটি ভালগেট নোঙর করলেই সাতশত টাকা চাঁদা দিতে হয় বলেও অভিযোগ করলেন ভালগেটের একাধিক সুকানি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাজী জহির বিষয়টি স্বীকার করে জানালেন, ঘাট তার নামে ডাক নেয়া। তিনি অবৈধভাবে জনসাধারণের নিকট থেকে কোন টাকা নিচ্ছেন না। তবে তার এই ঘাটের ইজারা সংশ্লিষ্ট বৈধ প্রমানাদির তথ্য উপাত্ত চাইলে তিনি বিআইডব্লিউটিএর উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শের অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানের বক্তব্য না পাওয়া গেলেও সাবেক পঁচিশ বছরের চেয়ারম্যন ও বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল আলম খান জানালেন, আসলে দিয়া বাড় ঘাট কোনো ঘাটই না। এখানে টোল আদায় করার কোন বৈধতাই নেই। আমরা কাউন্দিয়ার দুই লক্ষাধিক বাসিন্দা মিরপুরসহ রাজধানীর সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে নৌকায় পারাপার হতে কাউন্দিয়া-দিয়াবাড়ি ঘাট ব্যবহার করি। বৃষ্টির দিনে অনেক সময় ঘাটটি পিচ্ছিল হয়ে জনসাধারণের চলাচলের সমস্যা হতো। আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সেখানে পাকা সিঁড়িও করে দিয়েছিলাম। কিন্ত আজকাল একটি প্রভাবশালী মহল বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে টোলের নামে অবৈধভাবে প্রতিদিন নিরীহ জনসাধারণের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছে। যতবার পারাপার-ততবারই দিতে হয় টাকা। এতে করে একেকজন নিন্মশ্রেনীর কর্মচারী, দিনমজুরসহ গরীব অসহায় কাউন্দিয়াবাসীর প্রতি এটি এক রকম জুলুমই বলে আমি মনে করি। এসমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ঢাকা ১৪ আসনের সংসদ সদস্য আগা খাঁন মিন্টু এমপি বলেন, বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই দিয়াবাড়ি ঘাটে খেয়া পারাপারে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে উল্লেখ করে কাউন্দিয়ার প্রায় চার সহস্রাধিক বাসিন্দাদের দস্তখতকৃত একটি অভিযোগপত্র আমার বরাবর এসেছে। আমি খুব শিঘ্রই বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয়কে জানাবো। যাতে এই ঘাটে দুই লক্ষাধিক জনসাধারণকে আর টোল না দিতে হয় সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন