🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম আর নেই

Cox's Bazar news
❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর, কক্সবাজারে প্রতীথযশা সাংবাদিক, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম আর নেই।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগে  মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) এশার আজানের আগমুহুর্তে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

মরহুমের বড় ছেলে ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম মুত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামিকাল বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্টিত হবে।

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। প্রবীণ ‍মোহাম্মদ নুুরুল ইসলাম কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার বৃহত্তর মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি মুত্যুর আগপর্যন্ত কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, কক্সবাজারে কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা, সাপ্তাহিক স্বদেশবাণী ও সাপ্তাহিক কক্সবাজার পত্রিকারও সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর।

এদিকে তাঁর পারিবারিক সুত্র জানিয়েছেন, আজ রাতেই তাঁর মৃতদেহ কক্সবাজার নিয়ে আসাহ হবে। আগামিকাল বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাযা অনুষ্টিত হবে।

নুরুল ইসলামের কর্ম ও জীবন
আজাদ মনসুর রচিত ‘কক্সবাজার সাংবাদিক কোষ’র তথ্য মতে, জেলার সাংবাদিকতায় নতুনমাত্রা সৃষ্টিকারী পুরোধা হিসেবে যার নাম জেলাজুড়ে আলোকিত তিনি সাংবাদিক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। সর্বজন সমাদৃত এই মানুষটি ১৯৩৮ সালে চকরিয়া উপজেলার মগনামা (বর্তমান পেকুয়া উপজেলা) জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আশরাফ মিয়া। মা খুইল্লা বিবি।

শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৫৩ সালে কুতুবদিয়া বড়ঘোপ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৬ সালে সাতকানিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৬১ সালে চট্টগ্রাম নৈশ কলেজ (সিটি কলেজ) থেকে বিএ পাস করেন।

কর্মজীবনে তিনি স্নাতক ছাত্র থাকাকালে ১৯৬১ সালে দৈনিক আজাদীর চট্টগ্রাম অফিসে স্টাফ রিপোর্টার হিসাবে সাংবাদিকতার সূচনা করেন। ১৯৭২ সালে বাংলার বাণী’র জেলা প্রতিনিধি, ১৯৭৩-৭৪ সালে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এনা’র জেলা প্রতিনিধি। ১৯৭৮ সালে সাপ্তাহিক কক্সবাজার, ১৯৮০ সালে সাপ্তাহিক স্বদেশবাণী এবং ১৯৯১ সাল থেকে কক্সবাজার নিয়মিত দৈনিক কক্সবাজার প্রকাশ করে আসছেন।

১৯৭৪ সালে সাময়িকী প্রিয়তমা প্রকাশ করেন। ১৯৭৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব গঠন ও ক্লাবের আহবায়ক মনোনীত হন। ১৯৭৬ থেকে পরপর আট দফা প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

প্রকাশিত পুস্তক : ৬ দফা কি ও কেন (১৯৬৬), ইসলামের দৃষ্টিতে ৬ দফা (১৯৬৬)।

কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ১৯৯৭ ও কক্সবাজার প্রেসক্লাব সংবর্ধনা (২০০০) লাভ করেন।

তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ কক্সবাজার জেলা আহবায়ক, সভাপতি- মানবাধিকার কমিশন কক্সবাজার জেলা, সহ-সভাপতি- জেলা আওয়ামী লীগ, সহ-সভাপতি- বায়তুশ শরফ হাসপাতাল, কক্সবাজার।

আজীবন সদস্য- ঢাকা-চট্টগ্রাম সমিতি, ডায়াবেটিস হাসপাতাল, কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরী।

কক্সবাজারে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। পাকিস্তান বিরোধী প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন ও ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র হিসাবে নূরুল আমিনের জনসভা বানচাল-প্রচেষ্টার অভিযোগে চট্টগ্রামের লালদীঘির প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অন্যান্যদের সাথে আটক ও ৪ ঘন্টা পর মুক্তি লাভ করেন।

১৯৬৩ সাল এনডিএফ-এর কক্সবাজার জেলা আহবায়ক, ১৯৬৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯এর গণঅভ্যূত্থান ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ কৃষকলীগ-এর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য। ১৯৭৪ সালে বাকশালে যোগদান ও কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর সদস্য মনোনীত হন।

২০০৮-এ ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ আবুল কাশেম সাহিত্য একাডেমী পদক, সাংবাদিকতায় ১৯৯৬ কক্সবাজার ইনিস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরী পদক, ১৯৯৬ এপেক্স ক্লাব সম্মাননা, কক্সবাজার প্রেসক্লাব রজত জয়ন্তীর সৌজন্য পুরস্কার।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য প্রথম আলো সম্মাননা ’০৯, পরিবেশ পুরস্কার কক্সবাজার প্রেস ক্লাব ২০০৬। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বাধীনতা উৎসব ’০৮ উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সম্মাননা, ২০০৯ সালে কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদ (সিএসএস) এর উদ্যোগে কৃতি সাংবাদিক সম্মাননায় ভূষিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কক্সবাজারের পরিচালনা সম্পাদক। মেজ ছেলে নজিবুল ইসলাম ও ছোট ছেলে ড. আশরাফুল ইসলাম সজিব বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। বড় মেয়ে আশরাফ জাহান কাজল নারীনেত্রী ও ছোট মেয়ে ফাতেমা জাহান উজ্জ্বল বাহারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন