🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ১০ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

আফগানিস্তানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে এই হাসান আখুন্দ!

hasan akhondu n42
❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১ আন্তর্জাতিক, ফিচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ’কে প্রধানমন্ত্রী করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেছে তালেবানরা। গ্রুপটির সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে যে সরকার মঙ্গলবার দিনশেষে ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে কোনো নারীর স্থান নেই। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতুহল ছিল গত ১৫ই আগস্ট থেকে।

অবশেষে নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকার গঠনের ঘোষণা দেন তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ। এতে উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোল্লা আবদুল গনি বারাদার।

ইতঃপূর্বে, তালেবান সরকারের প্রধান হিসেবে বারাদারের নাম জানায় তালেবান। আর ইরানের ইসলামী সরকারের আদলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নাম জানান তালেবানের একাধিক কর্মকর্তা।

সে হিসেবে মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে অস্থায়ী সরকারের প্রধান ঘোষণা কিছুটা অপ্রত্যাশিতই ছিল। তাছাড়া, অন্যান্য নেতাদের মতো তাঁর পরিচিতি গণমাধ্যমে খুব একটা আলোচনাও হয়নি।

মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের পূর্ণ পরিচয়:

তালেবান গোষ্ঠীর প্রভাবশালী ‘রাহবার-ই-শুরা’ আসলে শীর্ষ নেতাদের পরিষদ। এ পরিষদের প্রধান হিসেবে হাসান আখুন্দ প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। তালেবানের অভ্যন্তরীণ সকল বিষয়ের পরিচালনা এখান থেকেই করা হয়। কাঠামোও অনেকটা একটি সরকারের মন্ত্রীসভার মতোই। তবে যেকোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার শীর্ষ নেতা তথা মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের হাতে। তাঁর অনুমোদনে সাপেক্ষেই বাস্তবায়িত হয় সকল পদক্ষেপ।

কিছু সূত্রের মতে, তালেবানের শীর্ষ নেতা মোল্লা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিজেই সরকার প্রধান হিসেবে মোল্লা হাসানের নাম প্রস্তাব করেন।

তালেবান যে শহরে গঠিত হয়, সেই কান্দাহারেরই বাসিন্দা মোল্লা হাসান। তিনিও গোষ্ঠীটির অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।

গত দুই দশক ধরে তিনি রাহবার-ই-শুরার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানের প্রথম সরকারে মোল্লা হাসান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বার্তাসংস্থা ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মোল্লা হাসান একজন কট্টরপন্থী ব্যক্তিত্ব, ২০০১ সালের মার্চে তাঁর তত্ত্বাবধানেই আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশের বিখ্যাত বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করা হয়। জাতিসংঘ এখনও তাঁকে সন্ত্রাসী তালিকায় রেখেছে।

তবে মোল্লা হাসানের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে আখুন্দজাদা বলেছেন, “তিনি রাহবার-ই-শুরার প্রধান হিসেবে ২০ বছর ধরে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এমন একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা, যিনি সচ্চরিত্র ও নিষ্ঠার জন্য সুপরিচিত।”

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন