শিক্ষার্থীদের ঢলে মূখরিত শিক্ষাঙ্গন,স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান শুরু


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ দেশের খবর, রংপুর

অনিল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা:

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে টানা ১৮ মাস বন্ধের পর আজ ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশের মতোই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।

শিক্ষার্থীদের ঢলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে উৎসবের আমেজ। সেই সঙ্গে প্রাণোচ্ছল ফিরে পেয়েছে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই উপজেলার ২২৩ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সরেজমিনে মনিটরিং করতে দেখা গেছে।

রবিবার সকালে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে শিক্ষার্থীরা মূখে মাস্ক পরে স্কুলে প্রবেশ করছে। কয়েকটি স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে সামাজিক দুরত্বসহ শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শ্রেণীকক্ষে উৎসবের মধ্য দিয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্য দিকে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চিত্রটি একটু ব্যতিক্রম। ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন এতোদিনেও স্কুল পরিস্কার পরিছন্ন না করেই আজ স্কুল খোলার দিয়ে সকাল ৯ টা ২০ মিনিটে এক ঝাঁক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে শ্রেণী কক্ষ, বারান্দা, স্কুল মাঠ ও টিউবওয়েলের পাড় পরিস্কার করাচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠান পরিস্কারের চিত্রটি প্রতিবেদকের চোখে পড়লে দ্রুত ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে গিলে বাঁধার মূখে পড়েন। সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের বলেন এখন আর পরিস্কার পরিছন্নতার করার দরকার নেই । পরে করা হবে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্কুল পরিস্কারের ছবি তোলার কাজ শেষ করেছেন প্রতিবেদক। ঘটনাটি জানা জানি হলে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বালারহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্কুল ও শ্রেণীকক্ষ পরিস্কারের বিষয়টি প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর দেননি। এতোদিন স্কুল ধোয়া-মোছার কাজ করেননি কেন,দ্বিতীয়বার এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমরা পরিস্কার করেছি।

তারপরেও আজ ময়লা থাকায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরিস্কারের কাজ করাচ্ছি। ঐ প্রতিষ্ঠানের কমিটির মেয়াদ না থাকায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদুল হককে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বালারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পিয়াংকা রানী রায় ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থ তামান্ন খাতুন জানান, ভাইরাসের কারণে ১৮ মাস পর স্কুল এসে পাঠদান করতে পাড়ায় আমরা খুবেই খুশি হয়েছি।

আমাদের স্কুল খুলে দেওয়ায় সরকারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনেক দিন পর স্যারসহ বন্ধ-বান্ধবীদের সাথে দেখা হওয়ায় খুবেই আনন্দ হচ্ছে। তরে এই দিন আমাদের কাছে অনেক স্বরনী হয়ে থাকবে।

বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকার জানান, সরকারী নিদের্শনা মেনে গত এক সপ্তাহ ধরে পরিস্কার পরিছন্নতার, সমগ্র প্রতিষ্ঠান জীবাননাশক স্প্রে করা, ব্রেঞ্চ -চেয়ার-টেবিল ধোয়া-মোছা শেষ করে আজ নতুন রুপে আগের মতোই প্রাণ ফিরে পেয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠান। যেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঢলে মূখরিত শিক্ষাঙ্গন। সুন্দর পরিবেশে পাঠদান চলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো.শহিদুল ইসলাম জানান, জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও জেলা-উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মনিটরিং করছে।

জেলাজুড়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহ আগেই কিছু প্রতিষ্ঠান দুই-এক আগেই ধোয়া-মোছার কাজ সম্পূর্ণ কওে রবিবার থেকে পাঠদান পরিচালনা করছেন।

ফুলবাড়ী উপজেলার বালাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের প্রথম দিনেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সকাল ৯ টায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে শ্রেণীকক্ষ,মাঠ ও টিউবওয়লের পাড় পরিস্কার করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে এই শিক্ষা কর্মকর্তা জানান,দুই-একজন প্রধান শিক্ষকের কারণে আজকে যে ঐতিহাসিক সুনামটি প্রশ্নবিদ্ধ। উপজেলা শিক্ষা কর্মকতা রিপোর্ট দিয়ে সরকারী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন