• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

রেল ছাড়াই চালু হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু!


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ফিচার

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মুন্সীগঞ্জ- পদ্মা সেতুর অংশে যুক্ত করা রেললাইনটি বসাতে সময় লাগবে ছয়মাস। তাই আগামী জুন মাসের আগে সেতুতে রেল পথ তৈরির কাজ অসম্ভব হয়ে পরেছে। সেতুর কাজের এমন পরিস্থিতিতে রেলের জন্য অপেক্ষা করা হবে না। যদি আগামী জুনের মধ্যে রেল পথ প্রস্তুত না হয়, তাহলে ট্রেন লাইন ছাড়াই চালু করা হবে পদ্মাসেতু।

স্বপ্নের সেতুর অব কাঠামো গত নির্মাণ প্রায় শেষের পথে। বর্তমানে পুরো সেতুর সার্বিক নির্মাণ অগ্রগতি ৯৪.২৫ শতাংশ। আগামী বছরের জুনে সড়ক ও রেল পথ নিয়ে দ্বিতল পদ্মাসেতু চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

আর সেই পরিকল্পনা মাথায় রেখেই চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। পদ্মা সেতুর দুই হাজার ৯১৭ টি রোড ওয়েস্ল্যাবের সবকয়টি স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন কাজের তালিকায় রয়েছ অক্টোবরের শেষের দিকে শুরু হবে কার্পেটিংয়ের কাজ। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সালের জুনের শুরুতেই যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে সেতুর সড়ক পথ।

পদ্মাসেতুর রেল পথে ট্রেনচলতে আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। যেহেতু এই মুহূর্তে সেতুর রেল অংশে চলছে গ্যাসলাইন বসানোর কাজ। দিন রাত চব্বিশ ঘন্টা তিন ভাগে ভাগ করে কাজ করা হচ্ছে।

এদিকে পুরো সেতুটি এখনো সেতু কর্তৃপক্ষের হাতে আছে। রেলের অংশ, আর্থাদ রেলপথ মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করার আগ পর্যন্ত সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। সেতুর রেল অংশের চলমান কাজ শেষ হবে আগামী বছরের জুনে।

সেতু কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য বলছে, আগামী মার্চের আগে সেতুতে রেললাইন বসানোর অনুমতি দেবে না সেতু কর্তৃপক্ষ। আর সেতুতে রেললাইন বসাতে সময় লাগবে অন্তত ছয়মাস। তাই আগামী জুনের আগে সেতুতে রেল পথ তৈরির কাজ প্রায় অসম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে রেলের কাজের জন্য অপেক্ষা করা হবে না। যদি আগামী জুনের মধ্যে রেল পথ প্রস্তুত না হয়। তাহলে ট্রেন ছাড়াই চালু করা হবে পদ্মাসেতু।

এ সকল তথ্য নিশ্চিত করেছেন পদ্মাসেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মোঃ আঃ কাদের। তিনি আরো জানান, মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ মূল সেতুর কাজের বাকি মাত্র সাড়ে ৫ শতাংশ।

পদ্মা সেতু দ্বিতল বিশিষ্ট। এর ভেতর দিয়ে যাবে ট্রেন। ওপরে চলবে যানবাহন। সেতু প্রকল্পের অধীনে যান চলাচলও রেললাইন নির্মাণ কাজ চলছে। দুই পাড়ের সঙ্গে রেলসংযোগ করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জ ও পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৪৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। এই পথে ২০টি স্টেশন থাকবে। পদ্মাসেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের মাওয়া থেকে ভাংঙ্গা অংশের অগ্রগতি ৭১ শতাংশ এবং ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত অগ্রগতি ৪০ শতাংশ।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন