🕓 সংবাদ শিরোনাম

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই পেরুর প্রেসিডেন্ট আটক * মকবুলের মরদেহ দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল, স্ত্রী সন্তানকে আর্থিক সহায়তা * রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না, আমরাও করব না: ওবায়দুল কাদের * নয়াপল্টন থেকে মির্জা ফখরুলকে ফিরিয়ে দিলো পুলিশ * বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আরও ১,২৫০ কোটি টাকা ঋণ নিলো ২ ইসলামী ব্যাংক * দুই মামলায় হাজিরা দিলেন মির্জা ফখরুল-আব্বাস * থমথমে নয়াপল্টন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ * ফুলবাড়ীতে অপহরণের ২১ দিনেও উদ্ধার হয়নি নরসুন্দর বাবলু ! * বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দেশে কোন মানুষ ঠিকানাহীন থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী * ভারতকে টানা ২ সিরিজ হারাল বাংলাদেশ *

  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

৮ কোটি টাকা গচ্চার খাতায় রংপুরের সিটি চিকলি পার্ক!

park n4n
❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় চিকলি বিলের চারপাশ সংরক্ষণ করে তৈরি করা হয়েছিল ‘রংপুর সিটি চিকলি পার্ক’। প্রায় ১০০ একর জায়গা নিয়ে ২০১৫ সালে বিনোদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করে রংপুর সিটি করপোরেশন। এতে সাজসজ্জা ও দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য রাইড স্থাপনে ব্যয় করা হয় ৮ কোটি টাকা। কিন্তু মানহীন যন্ত্রের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটির কারণে ইতিমধ্যে প্রায় সব রাইড বিকল হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে পার্কের কার্যক্রম। ফলে ব্যয় করা ৮ কোটি টাকা উঠেছে গচ্চার খাতায়।

২০১৫ সালের পয়লা বৈশাখ পার্কটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। শুরুতে পার্কটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী পরিবার নিয়ে টিকিট কেটে বিনোদন কেন্দ্রটিতে ঘুরতে যেতেন। কিন্তু এখন সে দৃশ্য আর নেই।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, শুরুতে পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন ৩৩ জন কর্মচারী। চালুর প্রথম দিকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় হতো। সাপ্তাহিক ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো টিকিট বিক্রি হতো। এ ছাড়া বাংলা নববর্ষসহ বিশেষ দিবসগুলোতে আয় প্রায় ৫ লাখ টাকায় পৌঁছে যেত। কিন্তু বর্তমানে পার্কটির দৈন্যদশার কারণে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিটি করপোরেশন।

২০১৫ সালে বিনোদনকেন্দ্রটি নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু মানহীন যন্ত্রের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটির কারণে ইতিমধ্যে প্রায় সব রাইড বিকল হয়ে পড়েছে।
পার্কটিকে দৈন্যদশা থেকে মুক্ত করতে গত অর্থবছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এর নাম ‘বঙ্গবন্ধু চিকলি পার্ক’ করার উদ্যোগ নেন বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এতে ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশুদের জন্য নির্ধারিত বৈদ্যুতিক নাগরদোলা, ঘূর্ণি দোলনা, সাঁজোয়া যান, গাড়ি, মেরি গো রাউন্ড ও প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে গড়ে ওঠা ট্রেন লাইন—সব বিকল হয়ে পড়ে আছে। সচলের মধ্যে রয়েছে শুধু একটি স্পিডবোট। বিলের পাশে গড়ে তোলা বসার আসনগুলো ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, পার্কটি নির্মাণের সময় কেনা রাইডগুলো মান্ধাতা আমলের ছিল। এগুলো আর চলছে না। এতে রাষ্ট্রীয় টাকার অপচয় করা হয়েছে। এগুলো আমরা নিলাম করার জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছি।

মেয়র আরো জানান, পার্কটির আধুনিকায়নের জন্য তাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে বঙ্গবন্ধুর নাম দিয়ে আধুনিকায়নের জন্য বরাদ্দ আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বর্তমানে পার্কটি বন্ধ থাকলেও অচিরেই খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি