• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

নবীগঞ্জে দ্বিতীয় ডোজ না নিয়েও ৮৫৮ জন পেলেন টিকার সনদ!

Habigonj news
❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ Uncategorized

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জ উপজেলায় করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ না নিলেও ৮৫৮ জনের সনদ প্রস্তুত হয়েছে বলে জানা গেছে। মোবাইলে এসেছে টিকা সম্পন্নের মেসেজও। মোবাইল ফোনে মেসেজ পেয়ে এদের অনেকেই ডাউনলোড করে নিয়েছেন টিকার সনদ।

যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সার্ভার জটিলতা ও টিকা গ্রহণকারীর টিকা কার্ডের কিউআর কোর্ড স্ক্যান না করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ডোজ না নিয়েও মেসেজ পাওয়াদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের টিকা পেতে কোনও সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট গণটিকা কর্মসূচিতে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাদান কেন্দ্রে এসে সাত হাজার ৭৯০ জন প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন। এর ঠিক এক মাস পর ৭ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেন ছয় হাজার ৯৩২ জন। ওইদিন টিকা নিতে আসেননি প্রথম ডোজ নেওয়া ৮৫৮ জন। সেদিন দ্বিতীয় ডোজ নিতে আসা কিছু মানুষের কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করা সম্ভব হয়নি।

ফলে কারা টিকা নিয়েছেন তা শনাক্ত করা যায়নি। এর ফলে প্রথম ডোজ নেওয়া সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে মর্মে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের দ্বিতীয় ডোজ না নেওয়া ৮৫৮ জনের কাছেও একই মেসেজ পৌঁছে। তারা অনেকেই দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ না করেই সনদ ডাউনলোড করে নিয়েছেন।

দ্বিতীয় ডোজ না নিয়েও মেসেজ পাওয়া নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, আমি প্রথম ডোজ নিয়েছিলাম। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার আগেই মেসেজ আসে, আমার দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।

তোফায়েল আহমদ নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘৭ আগস্ট প্রথম ডোজ নিয়েছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার আগেই টিকা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে-এমন ম্যাসেজ আসে আমার মোবাইলে। এতে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। সুরক্ষা অ্যাপে ঢুকে দেখি সনদও প্রস্তুত। পরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে সনদ প্রিন্টআউট করেছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক কর্মচারী জানান, দ্বিতীয় ডোজ না নেওয়া ৮৫৮ জনের মোবাইলে ম্যাসেজ গেছে। তবে তাদের অনেকেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করে দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করছেন।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন ঘটনা হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ না নেওয়া অনেকের মোবাইলে ম্যাসেজ গেছে। এর মধ্যে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাদেরকে দ্বিতীয় ডোজ দিচ্ছি। সনদ পেলেও টিকা পেতে তাদের কোনও সমস্যা হবে না।

হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলিছুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, জেলায় গণটিকা কর্মসূচিতে প্রথম ডোজ গ্রহীতাদের ৮৪ শতাংশের অধিক দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন। তবে কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি। নবীগঞ্জের বিষয়টি জেনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন