পক্ষে প্রচারণা না করায় ইয়াবা কারবারি প্রার্থীর হামলায় যুবক আহত

Cox's Bazar news
❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফে ইউপি নির্বাচনে জামাল হোসেন মেম্বার নামের এক আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা না করায় মো: রফিক (২৮) নামের এক যুবককে গুলি ও কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহত রফিক ওই এলাকার দিল মোহাম্মদের ছেলে। তার দু’পায়ে ৪টি গুলির পাশাপাশি মাথায় দুটি দায়ের কুপে জখম রয়েছে বলে হাসপাতাল সুত্র জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে টেকনাফের হৃীলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রঙ্গিখালীর  আলিখালী একালায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আত্মস্বীকৃত ও শীর্ষ ইয়াবা কারবারি জামাল মেম্বারের পক্ষে প্রচারণা করতে রাজি না হওয়ায় তার ছেলে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি শাহ আজম, তার দুই ভাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি শাহ নেওয়াজ ও জুয়েলসহ আরও কয়েকজন মিলে রফিককে হত্যার চেষ্টা করেছেন।

এদিকে রফিকের ওপর গুলিবর্ষণের পরপরই ফেইসবুক লাইভে এসে অভিযুক্ত শাহ আজম দাবি করেন হামলার শিকার রফিককে তার প্রতিপক্ষের লোকজন এলোপাথাড়ি গুলি করেছেন। এসময় হামলায় তার একজন চাচা, এবং তার পিতা জামাল মেম্বারসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করতে দেখা গেছে।

তবে শাহ আজমের দাবি নাকচ করে দিয়ে ভুক্তভোগী ও আহত মো: রফিক  বলেন, জামাল মেম্বারের ছেলে শাহ আজম, শাহ নেওয়াজ এবং জুয়েল প্রত্যেকে তার দু’পায়ে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন। তারমধ্যে শাহ আজম একাই দুটি গুলি করেন। এসময় তিনি চিৎকার করলে ফাঁকা  গুলিবর্ষণ করতে করতে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। জামাল মেম্বার নিজেও কিরিচ দিয়ে মাথায় আঘাত করেছেন বলে জানান রফিক।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান আহত রফিকের স্ত্রী খতিজা বেগম। তিনি জানান, তার স্বামী রফিকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবী, জামাল মেম্বার এবং তার ছেলে শাহ আজম পুরো রঙ্গিখালীকে ইয়াবা ব্যবসা ও অস্ত্রের ঘাঁটি হিসেবে পরিণত করেছেন। তারা যখনি বড় কোন ঘটনা ঘটান তখনি প্রত্যেকবার ফেসবুক লাইভে এসে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানতে চাইলে জামাল মেম্বার বলেন, আমি টেকনাফে আছি এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। এসময় তার ছেলে শাহ আজমের লাইভের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শাহ আজমকে পাওয়া যায়নি। পরে একজন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীকে দিয়ে গুলি বর্ষণের প্রতিবেদনটা না করার শর্তে প্রতিবেদককে এক লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠান অভিযুক্ত শাহ আজম।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত  আগামী ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় স্থানীয় নির্বাচনে টেকনাফের হৃীলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড থেকে মেম্বার প্রার্থী হিসেবে ফুটবল মার্কা প্রতীক নিয়ে  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকাভুক্ত ও আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি জামাল হোসেন (ওরফে) জামাল মেম্বার।

তিনি ছাড়াও তার তিন ছেলে শাহ আজম, শাহ নেওয়াজ এবং জুয়েলও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি। এদের মধ্যে জামাল মেম্বার ও শাহ আজম ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে  ১০২জনের ইয়াবা কারবারি সঙ্গে অস্ত্র ও ইয়াবা জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সম্প্রতি ছেলে  সাহ আজম ১০ হাজার ইয়াবাসহ ফের টেকনাফ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তবে মাস না পেরুতে গারাগার থেকে বের হয়ে আসেন শাহ আজম।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন