• আজ শুক্রবার, ২ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

মাস্ক বিক্রি করে পরিবারের খাবার যোগাচ্ছে তারা

মাস্ক বিক্রি করে
❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি:

মহামারী করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে মাস্ক নিয়ে পথে কিংবা সড়কে বিক্রি করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। তা থেকে যে আয় হচ্ছে তা দিয়েই চলছে তাদের পরিবারের ভরণ-পোষণ। ফরিদপুর শহরের জেনারেল হাসপাতালের সামনের সড়কে মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এমন দৃশ্যই দেখা যায়।

এদের কারো বয়স ৬ আবার কারো-বা ৯। একজনের একটু বেশি। কিন্তু এ বয়সেই সংসারের জোয়ালটা নিয়েছে নিজেদের কাঁধে। আর মহামারী করোনার সময় থেকেই তারা মাস্ক বিক্রি করে আসছেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গেটে। এখনো অব্যাহত আছে তাদের মাস্ক বিক্রির কর্মকাণ্ড।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, এখানে প্রতিদিনই আট দশজন শিশু শিক্ষার্থী নিয়মিতভাবে মাক্স বিক্রি করেন। সারাদিন যেটুকু আয় করেন তাই নিয়ে সংসার চালান তারা। শুধুমাত্র শুক্রবার বাদে অন্যান্য দিন তাদের হাঁকডাকে মুখরিত থাকে জেনারেল হাসপাতাল এলাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানকার যে সমস্ত বাচ্চারা মাস্ক বিক্রি করেন। তারা বেশিরভাগই প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থী। কিন্তু পরিবারের অভাবের কারণে পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই সংসার চালাচ্ছেন তারা।

কথা হয় মাস্ক বিক্রিরত শিশু সুমনের (ছদ্মনাম) সাথে। সে জানায়, তার বাড়ি শহরের আলীপুর এলাকায়। তার বাবা মান্নান পেশায় একজন রং মিস্ত্রি। বাবার আয়ে দিন আনে দিন খায় অবস্থায় চলে তাদের সংসার। বিগত দেড় বছর যাবত করোনার প্রভাবে দেশব্যাপী সকল কার্যক্রম স্থগিত করায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তার বাবা। এতে চরম বিপাকে পড়েছে পুরো পরিবার। সারাদিনে একমুঠো খাবারের জন্য দিশেহারা সকলে।

এ অবস্থায় সুমন স্থানীয়ভাবে তৈরি মাস্ক নিয়ে বিক্রি করছে। সুমন জানায়, বাবাও কর্মহীন। তাই সংসারের ব্যয় নির্বাহের জন্য একটা উপায় করতেই বাধ্য হয়েছে মাস্ক বিক্রি করতে।

তিনটি মাস্ক বিক্রি হয় ১০ টাকা আবার ৬ টি মাস্ক বিক্রি হয় ২০ টাকা। এভাবে চলছে তাদের সংসার। তাদের আশাবাদ সরকার যদি তাদের সামান্য সহযোগিতা করত তাহলে তাদের পরিবার নিয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকতে পারতো। কেননা প্রতিদিন বেঁচা-কেনা সমান হয় না তাই যেদিন বেঁচা-কেনা কম হয় সেদিন তাদের মারাত্মক অসুবিধার মধ্যে দিয়ে পার করতে হয়।

ফরিদপুর সদরের ইউএনও মো: মাসুদুল আলম বলেন, করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাঁশাপাশি সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর লোকজনের জন্য প্রচুর ত্রাণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। এ থেকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কোন দরিদ্র মানুষ বাদ যাবে না। তাই ওই শিশুদের পরিবারকে সহযোগিতা করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।

আরও পড়ুন :

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন