• আজ বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ৷

চন্দ্রিমায় জিয়ার লাশ নেই, বাক্স সরিয়ে ফেলুন: সংসদে শেখ সেলিম


❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ওখানে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই। একটা বাক্স রেখে বলতেছে এটা জিয়াউর রহমানের লাশ। এই বিভ্রান্ত দূর হয়ে গেছে। ওখানে যে বাক্সটা আছে, ওই বাক্সটা সরিয়ে লুই আই কানের ডিজাইন যেটা আছে সেইটাকে বাস্তবায়ন করেন মাননীয় স্পিকার।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া এর আগে চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের লাশ থাকা-না থাকা নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির এমপিরা।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে শেখ সেলিম বলেন, লাশ থাকলে প্রমাণ করেন? এক মাস সময় দিলাম। আপনার তখন ক্ষমতায় ছিলেন। তখন সেনাপ্রধান ছিলেন এরশাদ সাহেব সেও দেখে নাই। আপনারা তাহলে কিভাবে প্রমাণ করবেন ওখানে জিয়াউর রহমানের লাশ আছে।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা এই সংসদ ভবনে জিয়াউর রহমানের কবর আছে এটা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ওখানে যে জিয়াউর রহমানের কবর নাই। এটা ৪০ বছর আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ২০ জুন ১৯৮১। আমি তখন নতুন পার্লামেন্ট মেম্বার। জিয়াউর রহমান মারা গেছে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার পরিবারের কেউ দেখে নাই। তার লাশ খালেদা জিয়া দেখে নাই, তারেক জিয়া দেখা নাই ইত্তেফাকে বের হয়েছে। সেখানে গিয়ে সে কান্নাকাটি করেছে আমার বাপের লাশ দেখাও। শাহ আজিজ একটা চালাকি করেছে, সে বলছে যে লাশ পাওয়া যাক আর না যাক একটা বাক্স পাঠিয়ে দাও। সেই বাক্স ওখানে পাঠায়।

সেদিন জনমনে সন্দেহ ছিল যে কিসের জানাজা করছি? এটা কি বাক্স? না জিয়াউর রহমান আছে। কারণ কোনো মন্ত্রীও দেখে নাই। তখন সরকারে বিএনপি ক্ষমতা সব তাদের। আমি ২০ জুন ১৯৮১ পার্লামেন্টে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম।

এসময় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কিছু বলায় তাদের জবাবে শেখ সেলিশ বলেন, ৪০ বছর পর আবারও লাশ নিয়ে কেন লাফালাফি করছেন? ওটা প্রমাণই করতে পারেন নাই। আমি বলেছিলাম ওটা আপনারা প্রমাণ করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার লাশ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ও বিভিন্ন জনমনে বিভিন্ন সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। এটা আমার সেই সময়কার বক্তব্য।

শেখ সেলিম বলেন, সেদিন রাষ্ট্রপতিকে দেখার জন্য বহুলোক সমাগত হয়েছিল কিন্তু কাউকে লাশ দেখানো হয়নি। তাই জনমনে সন্দেহ এই লাশ কার লাশ? জনগণের সন্দেহ ওই বাক্সের ভেতরে কোনো লাশ আছে কি না? তাই সরকারকে অনুরোধ করব যদি ওটা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লাশ হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চয় আপনাদের কাছে সেই লাশের ছবি আছে। আগামী ২ দিনের ভেতর পত্রপত্রিকায় সেই ছবি ছাপিয়ে জনগণের সন্দেহ দূর করার চেষ্টা করবেন। আর যদি তা করতে না পারেন জনগণের সন্দেহ যেটা হয়েছে সেটাই পরিণত হবে।

তিনি বলেন, আজ ৪০ বছর পর্যন্ত একটা ছবি দেখাতে পারেন নাই। একটা বাক্স কবর দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান সব কিছু হয়েও একটা ছবি নাই। যে কোনো একটা মন্ত্রী মারা গেলেও তো তার ছবি ছাপা হয়। ৪০ বছরেও একটা ছবি ছাপাতে পারেনি। একটা বাক্স এনে বলে এটা জিয়াউর রহমানের লাশ। এই বিভ্রান্ত দূর হয়ে গেছে।

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ওখানে যে বাক্সটা আছে, ওই বাক্সটা সরিয়ে লুই আই কানের ডিজাইন যেটা আছে সেইটাকে বাস্তবায়ন করেন। লুই কান বলছে ওখানে কোনো স্থাপনা হবে না। ওই কবরে যদি বাক্সটা থাকে ওখান থেকে সরিয়ে দেন। সংসদের সৌন্দর্য্য বিনষ্ট করা যাবে না।