• আজ বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২১ অক্টোবর, ২০২১ ৷

রংপুরে পুলিশের এ এস আইয়ের বিরুদ্ধে জাল টাকা ব্যবসার অভিযোগ

police
❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত এএসআই মো. আল আমিনের বিরুদ্ধে জাল টাকার ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা এবং দুজন নিরপরাধ যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।

রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এই অভিযোগ করার পর মোবাইল ফোনে আরও নতুন মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সদস্য আল আমিনের বিরুদ্ধে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কোতয়ালি থানায় জিডি করেছে ভুক্তভোগী জিসান নামে এক যুবক।
কোতয়ালী থানার ওসি আবদুর রশিদ জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১২ সেপ্টেম্বর একটি মোবাইল নাম্বার ট্রাক করে ফোন করা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে জাল টাকার ব্যবসার বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছেন বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর পশ্চিম মুলাটোল মহল্লায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য তরিকুল ইসলাম রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনারের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত এএসআই মো. আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকার ব্যবসা করে আসছেন। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য তরিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে রংপুর নগরীর পশ্চিম মুলাটোল মহল্লার আনোয়ারুল ইসলাম সোহান ও তার বন্ধু নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া মহল্লার রবিউল আলমের ছেলে শহারিয়ার আলম জিসান দুজনেই ব্যবসা করেন। ব্যবসাজনিত কারণে ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত এএসআই মো. আল আমিনের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। এরই সূত্র ধরে গত ৫ জুলাই এএসআই আল আমিন মোবাইল ফোনে দুই বন্ধুকে রংপুর নগরীর সোডাপীর এলাকায় একটি দোকানে ডেকে বলেন, তার কাছে বেশ কিছু জাল টাকা আছে, টাকাগুলো চালাতে পারলে তাদের অর্ধেক দেয়া হবে। এ কথা বলে দুই বন্ধুকে জাল টাকা নেওয়ার জন্য পীড়াপিড়ি করে। তারা রাজি না হলে অনেকটা জোর করে ৫টি ৫০০ টাকার জাল টাকার নোট তাদের হাতে দেয় পুলিশ কর্মকর্তা আল আমিন।

এরপর অনেকটা বাধ্য হয়ে জাল টাকা নিয়ে মিঠাপুকুরে তাদের ব্যবসায়িক কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলে করে রংপুরে আসার পথে নগরীর দমদমা ব্রিজের কাছে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের মোটরসাইকেল থামাতে বলে। তাদের তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে ৫টি ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর পুলিশ তাদের আটক করে নগরীর তাজহাট থানায় নিয়ে আসে। থানায় আনার পর পুলিশ জাল টাকা কে দিয়েছে, জানতে চাইলে এএসআই আল আমিন তাদের দিয়েছে বলে জানায় এবং মোবাইল ফোনে লাউড স্পিকারে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে দেয়।

এ ঘটনার পর তাজহাট থানা পুলিশ জাল টাকার মূল হোতা এএসআই আল আমিনকে গ্রেপ্তার না করে তাকে থানায় ডেকে না এনে উল্টো দুই বন্ধুকে থানায় আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালায়। শুধু তাই নয়, তাজহাট থানার এসআই আশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে দুই বন্ধু সোহান ও জিসানকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(ক) ধারায় জাল টাকা ব্যবসায়ী বানিয়ে একটি মামলা দায়ের করে।

তাজহাট থানা পুলিশ কৌশলে এএসআই আল আমিনকে বাঁচানোর কৌশল গ্রহণ করে। তারা মামলায় দুই বন্ধুকে আসামি করলেও এএসআই আল আমিনের নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করেনি। বরং এজাহারের অজ্ঞাত বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। মামলার বাদী এসআই আশাদুল ইসলাম উল্লেখ করেছে, জাল টাকাগুলো নগরীর সোডাপীর নামক স্থানে জনৈক আল আমিনের কাছ থেকে প্রাপ্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করলেও পরোক্ষভাবে এএসআই আল আমিনকে দায়ী করেও তাকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করিন।

এদিকে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য তরিকুল ইসলাম রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনারের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুকে অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর থানায় অমানুষিক নির্যাতন করে তাদের আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করায়। এ ঘটনার পর দুই বন্ধু রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকার পর পুলিশ সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে সোহান দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে আটক আছে তবে অন্য বন্ধু জিসান অতিসম্প্রতি রংপুরের দায়রা জজ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেছে।
ভুক্তভোগী স্বজনরা অভিযোগ করেছে, জাল টাকা ব্যবসায়ী পুলিশের এএসআই আল আমিনকে তাজহাট থানা পুলিশ মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা মেট্রোপলিটান পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা কিংবা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এ ব্যাপারে জাল টাকার মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মমিনুল ইসলামের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। পুলিশ সদস্য আল আমিনের বিরুদ্ধে জাল টাকার ব্যবসা করার অভিযোগ পাওয়ার পরেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছেন বলে জানান।

অন্যদিকে তাজহাট থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধানের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অস্ত্র বা মালামাল যার কাছে পাওয়া যায় তাকেই আমরা প্রথমে ধরি কিন্তু দুই আসামি আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে আল আমিনকে দায়ী করলেও কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার আবদুল আলীম মাহমুদের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন