🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ সোমবার, ৯ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৫ অক্টোবর, ২০২১ ৷

ব্যাংকিং সময়ের পর ভল্ট খুলে ভিআইপি গ্রাহককে ১৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়

union bank n34
❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার ভল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হওয়ার যে খবর এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্যাংকটির উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হাসান ইকবাল। জানিয়েছেন, ব্যাংককের একজন ভিআইপি গ্রাহককে দেয়া হয়েছে এই টাকা।

গুলশানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেন হাসান ইকবাল।

হাসান ইকবাল বলেন, ‘ব্যাংকিং আওয়ারের পর একজন ভিআইপি গ্রাহককে ঐ টাকা দেয়া হয়েছিল। ব্যাংকিং রুলস ভায়োলেট হলেও এমন ঘটনা নতুন নয়। গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কে এমন লেনদেন হয়।’

তবে কে এই ভিআইপি গ্রাহক এবং তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে এই টাকা নিয়েছেন কিনা, এ বিষয়ে কিছু জানাননি হাসান ইকবাল।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান ব্যাংকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বলেন, ‘ঘটনায় ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলের উপস্থিতিতেই ১৯ কোটি টাকার হিসাব সমন্বয় করা হয়।’

এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার বলেন, ব্যাংকটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর পরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যাংকটি জানিয়েছে, ব্যাংকিং সময় শেষ হওয়ার পর একজন গ্রাহককে ভল্ট খুলে ১৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে ব্যাংকের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হিসাবটি সমন্বয় করা যায়নি। ওই গ্রাহককে ভিআইপি গ্রাহক বলে দাবি করছে ব্যাংকটি।

গত সোমবার ইসলামি ধারায় পরিচালিত বেসরকারি খাতের ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখায় পরিদর্শনে গিয়ে ব্যাংকটির ভল্টের হিসাবে গরমিল দেখতে পান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। কাগজপত্রে ওই শাখার ভল্টে যে পরিমাণ টাকা থাকার তথ্য রয়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে প্রায় ১৯ কোটি টাকা কম পাওয়া যায়।

শাখাটির নথিপত্রে দেখানো হয়েছে, ভল্টে ৩১ কোটি টাকা রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে গুনে পেয়েছেন ১২ কোটি টাকা। বাকি ১৯ কোটি টাকার ঘাটতি সম্পর্কে শাখাটির কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দলকে যথাযথ কোনো জবাব দিতে পারেননি তাঁরা।

নিয়ম অনুযায়ী, ভল্টের টাকার গরমিল থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হয়। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ব্যাংকটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেনি বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকেও বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়নি। তবে ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন