• আজ রবিবার, ৮ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৪ অক্টোবর, ২০২১ ৷

আফগানিস্তানে অপরাধীদের হাত-পা কেটে দেওয়ার শাস্তি ফিরছে: তালিবান নেতা

turabi n34
❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- আফগানিস্তানে ‘সংস্কারকৃত’ তালেবান শাসন কেমন হবে তা দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব। বেশিরভাগ দেশ তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। এমন সময় তালেবানের এক প্রতিষ্ঠাতা জানালেন, শিগগিরই কঠোর ও শিরশ্ছেদের শাস্তি ফিরবে দেশটিতে। তবে প্রকাশ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে না।

মার্কিন বার্তা সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি ইসলামি আইনের কঠোর ব্যাখ্যার বাস্তবায়নকারীদের একজন শীর্ষ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি জানান, এবারের শাসনেও হাত কেটে ফেলা ও শিরশ্ছেদ শিগগিরই ফিরবে।

ষাটের কোঠায় থাকায় তুরাবি তালেবানের আগের শাসনামলে আইনমন্ত্রী এবং তথাকথিত পুণ্যের প্রচার ও পাপ দমন মন্ত্রণালয়ের প্রধান ছিলেন, যা ছিল মূলত ধর্মীয় পুলিশ।

তুরাবি জানান, ‘সাধারণত ইসলামী আইনে দোষী সাব্যস্ত হত্যাকারীর মাথায় গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবারের কেউ গুলি চালানোর দায়িত্ব পায়। তবে রক্তের টাকা পরিশোধের মাধ্যমে অপরাধীর বেঁচে থাকার সুযোগ ছিল। হাইওয়েতে ডাকাতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের একটি হাত এবং একটি পা কেটে ফেলা হয়।’

তুরাবি বলেন, স্টেডিয়ামে শাস্তি বাস্তবায়ন করার ফলে সবাই আমাদের সমালোচনা করেছে। কিন্তু আমরা তো কখনও তাদের আইন ও শাস্তি নিয়ে কথা বলিনি। আমাদের আইন কেমন হবে তা নিয়ে কারও কথা বলা উচিত না। আমরা ইসলাম অনুসরণ করবো এবং কোরআন থেকে আমরা আমাদের আইন গ্রহণ করবো।

তুরাবি আরও বলেন, নিরাপত্তার জন্য হাত কেটে ফেলা জরুরি। এমন শাস্তির দৃঢ় প্রভাব রয়েছে। মন্ত্রিসভা পর্যালোচনা করছে প্রকাশ্যে এমন শাস্তি বাস্তবায়ন করা হবে কিনা এবং একটি নীতি গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইসলামি আইন ও বিধিতে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। শান্তি ও ইসলামি শাসন আমাদের একমাত্র চাওয়া। আমাদের আগের শাসনেও মানুষ খুব শান্তিতে ছিল। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি বলে মানুষের মাঝে অপরাধপ্রবণতা কম ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো অপরাধের বিচারের জন্য চার সাক্ষী থাকতে হবে। যদি সাক্ষীদের বয়ানে সামান্য পার্থক্য থাকে তাহলে কোনো শাস্তি হবে না। কিন্তু যদি সবাই একই কথা বলে তাহলে শাস্তি হবে। সুপ্রিমকোর্ট এমন বিষয়ের দেখাশোনা করবে। তারা যদি দোষী হয়, তাহলে শাস্তি পাবে।

কাবুলের বাসিন্দা আমান এপিকে বলেন, ‘অপরাধীদের জনসমক্ষে লজ্জিত হতে দেখা ভালো ব্যাপার নয়। কিন্তু, এটা অপরাধ দমনে সহায়ক। কারণ, মানুষ এটা দেখে সতর্ক হবে, যেন তাদের ক্ষেত্রে এমনটি না ঘটে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন