• আজ রবিবার, ৮ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৪ অক্টোবর, ২০২১ ৷

জাতি একটি ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করছে: মির্জা ফখরুল

fokrul 5234b2
❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বর্তমানে জাতি একটি ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ একটি সরকার জবরদখল করে বসে আছে। যারা আমাদের ৫০ বছরের সব অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এ দুঃসময় শুধু সংবাদ মাধ্যমের নয়, এ দুঃসময় শুধু বিএনপির নয়, এ দুঃসময় পুরো জাতির জন্য।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এখন রাজনীতিবিদরা দেশ পরিচালনা করছে না। একজন রাজনীতিবিদকে সিকিউরিটি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে দিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী কাজ করিয়ে নিচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করেছে। ২০১৮ সালে তারা আগের রাতেই ভোট ডাকাতি করেছে। আপনারা জানেন, এই আওয়ামী লীগ ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া সব সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছিল। সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি দলীয়করণ করা হয়েছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি স্বৈরাচার এরশাদের হাত থেকে গণতন্ত্র ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমাদের বাক্ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন।’

ফ্যাসিবাদের সঙ্গে মুক্ত গণতন্ত্র ও মুক্ত গণমাধ্যম কখনো একসঙ্গে যায় না, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ মানেই হলো ভয়-ভীতি, ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নেওয়া। আজ আওয়ামী লীগ সে কৌশলই বেছে নিয়েছে।’

নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের প্রেস কনফারেন্সে একজন সাংবাদিককে নির্যাতন করা হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র। যখনই তাদের মতের বিরুদ্ধে বলবেন, তখনই নির্যাতন করা হবে।’

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই কমিশন একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। আমাদের ৫২ জন বুদ্ধিজীবী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি আইন প্রণয়নের কথা বলেছেন। এটা ভালো কথা, কিন্তু এই আইনটা করবে কে? যে পার্লামেন্ট করবে, সেখানে আওয়ামী লীগ ছাড়া কিছু নেই। যারা এ দেশের গণতন্ত্র হরণ করেছে, জনগণের সমস্ত অধিকার হরণ করেছে, তারাই এই আইন পাস করবে।’ নির্বাচন কমিশন আইন যাঁরা চান, সবার আগে তাঁদের এই বিষয় লক্ষ রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাশিয়াতে নির্বাচন হলো। সেখানে পুতিন বারবার নির্বাচনে জয়ী হচ্ছেন। আজকে বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান সংশোধন করেছে। দুর্ভাগ্য একটাই, আমাদের বিশিষ্ট নাগরিকেরা মাঝেমধ্যে কথা বলেন। কিন্তু এসব বিষয়ে তাঁদের যে একটা শক্তিশালী বক্তব্য দরকার, সেটা আমরা দেখছি না।’

সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে আটক সাংবাদিক, লেখক ও অ্যাকটিভিস্টদের মুক্তি ও মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি করেন। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরকার মতপ্রকাশের অধিকারকে আরও সংকুচিত করতে ডেটা প্রোটেকশন আইন করার কথা ভাবছে বলে অভিযোগ করেন শওকত মাহমুদ।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন