• আজ সোমবার, ৯ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৫ অক্টোবর, ২০২১ ৷

পানির স্রোতে ভেস্তে গেল বাঁশের সেতু, চরম দুর্ভোগে ১২ গ্রামের মানুষ

setu-n2n
❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ি বাড়ি চাঁদা তুলে নদীর উপড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনরকম চলাচলের জন্য একটি বাঁশের সেতু তৈরী করেছিলেন এলাকাবাসী। কিন্তু এ বছর বর্ষায় বাঁশের সেতুটির মধ্যাংশটি নদীর পানির স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ভীমপুর শাইলবাড়ী এলাকার মানুষ।

বাঁশের সেতুটি ভেঙ্গে পড়ার কারণে আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর, প্রামানিকপাড়া, মৌলভীপাড়া, বানিয়াপাড়া, খ্যানপাড়া, শাইলবাড়ি, ডাঙ্গাপাড়া, নলুয়ারডাঙ্গা, কোরানীপাড়া, মহেশখোলা, দর্জিপাড়া, ডাঙ্গাপাড়াসহ মোট ১২ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

তারাগঞ্জ উপজেলায় ভীমপুর শাইলবাড়ী ঘাটে একটি সেতুর অভাবে ১২ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জানা গেছে, বাঁশ দিয়ে তৈরী সেতুটি ২০১৬ সালে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙ্গে যায়। এর ফলে বন্যার পানি গ্রামে প্রবেশ করে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে। সর্বশেষ ২০২০ সালের বন্যায় আবারও সেতুটি ভেঙ্গে গেলে স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্দ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করেন। ১২ গ্রামের হাজারও মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে চলাচল করছিলো। কিন্তু সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব মানুষেরা।

ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আকমল ও আবেদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, সেতুটি ভেঙ্গে আমরা আমাদের ব্যবসা করতে পারছি না। বাজারে যেতে না পারার কারণে গ্রামের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে গ্রামেই তাতে লাভ কম।

তারা আরো বলেন, আমাদের উপজেলা সদর তারাগঞ্জ বাজারে সপ্তাহের দুদিন সোমবার ও শুক্রবার হাটবার। এ হাটে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য কেনাবেঁচা হয়। এখানে পণ্য বিক্রি করতে পারলে মোটামুটি বেশি টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে এভাবে দীর্ঘদিন থাকার কারণে আমাদের পণ্য আমরা বাজারে নিয়ে যেতে পারছি না। এতে করে আমরা লোকশান গুনছি। সেতুটি না থাকার কারণে দীর্ঘপথ অতিরিক্ত পারি দিয়ে যাইতে হয় উপজেলা সদর হাটে। এতে করে অতিরিক্ত টাকা বেশি ভাড়া গুণতে হয় আমাদের। সেতুটি নির্মাণ করা হলে স্থানীয় কৃষকেরা বেশি লাভবান হবেন।

আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (আওয়ামীলীগ সমর্থিত) দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার এলাকার শাইলবাড়ি ঘাটে সেতু নির্মাণের বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ না থাকার কারণে আমি সেতুটি সংস্কার করতে পারছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান বলেন, শাইলবাড়ি ঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য গত বছর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছি বরাদ্দ পেলেই সেখানে সেতু নির্মাণ করা হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন