ভুল চিকিৎসার দায় দুই লাখ টাকায় রফা!

Manikganj news
❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ঢাকা

দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: আশার আলো রূপ নিচ্ছে অন্ধকারে। অচিরেই শেষ হতে যাচ্ছে একটি স্বপ্ন। ২৩ বছরের একটি টগবগে তরুণকে অকাল মৃত্যুর ঠেলে দিয়েছে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা। সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরিবর্তে ওই তরুণ এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ভুল অস্ত্রপচারের কারণে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সে এখন স্কয়ার হাসপাতালে ডাক্তার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফারুক আহমেদ এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তোভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় রফা করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের ফিরোজা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ভুক্তভোগী ওই তরুণের নাম হাসানুজ্জামান শিবলু (২৩)। সে দৌলতপুর উপজেলার কাপশাইল গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র সে। একটি ভুল চিকিৎসা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাকে।

জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ জুলাই গলায় টনসিল জনিত অসুস্থতা নিয়ে সে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওইদিন বিকালে ডাক্তার শফিকুল ইসলাম ও ডাক্তার ওবায়দুর রহমান তার অস্ত্রপচার করেন। এরপর ৬ আগস্ট পর্যন্ত ওই হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেয় শিবলু। আর ৮ আগস্ট থেকে তার গলা থেকে অনবরত রক্ত বের হতে থাকে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শিবলুর বাবা হাবিবুর রহমান জানান, শিবলুর গলা দিয়ে অনবরত রক্ত বের হতে থাকলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। এরপর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে, শিবলুর ভুল অপারেশন করা হয়েছে। সে এখন মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক জানিয়েছেন শিবলুর বর্ণ ক্যান্সার ধরা পড়েছে। প্রথমে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। এতে প্রতিদিন খরচ হয় এক লাখ টাকা। এজন্য তাকে মিডফোর্ড সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা করা সম্ভব না হলে তাকে ভারতের মাদ্রাজে নিয়ে যেতে হবে। এতে প্রায় ৪০-৫০ লাখ টাকা খরচ হবে।

হাবিবুর রহমান জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর বুধবার এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্প্রতিবার বেলা ১১টার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের মধ্যস্ততায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে চুপ থাকতে বলেন।

আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অভিযুক্ত হাসপাতালকে জরিমানা করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেকে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিয়েছি।

জরিমানার বিষয়টি স্বীকার করেন ফিরোজা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসিপশনিস্ট ইয়াসমিন সুলতানা রিতা ও ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. শামীম। রিতা বলেন, ঘটনা সত্য। বৃহস্প্রতিবার ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে মিমাংসা করা হয়েছে। ওটা তো মিমাংসা হয়ে গেছে, তাহলে আপনারা আবার কেন আসছেন, প্রশ্ন করেন রিতা।

এ বিষয়ে কথা বলতে হাসপাতালের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহেদুর রহমানকে বারবার কল করেও পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন উত্তর মেলেনি।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, লাইসেন্সবিহীন ও অনিয়মকারী অবৈধ হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন