পরীমণির রিমান্ড: দুই বিচারককে ফের ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ

pori
❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনির বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে দুই বিচারক ও তদন্ত কর্মকর্তার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে তাদের আবারও আদালতে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের কাজলের ভার্চুয়াল বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে বিচারকদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন দুই বিচারক, কিন্তু ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি হাইকোর্ট। উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টির ওপর আবার শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর সময় রাখা হয়।

আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘বিচারকরা ট্রেনিংয়ে থাকার কারণে ওই দিন যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। দুজনই অল্পবয়সী অফিসার। যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে তারা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তারা এজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।’

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘তাহলে তারা আবারও ব্যাখ্যা দিক। সেজন্য ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হলো।’

এর আগে বিচারিক আদালতের বিচারক দেবব্রত দাস ও আতিকুল ইসলামের আগের ব্যাখ্যা গ্রহণ না করে হাইকোর্ট বলে, এরা উচ্চ আদালতকে শেখাতে চায়। রিমান্ড নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনাও মানতে চায় না।

পরীমনিকে বার বার রিমান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ‘ভুলবশত’ হয়েছে বলে প্রথম দফার ব্যাখ্যায় জানান বিচারিক আদালতের হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলাম।

তাতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম বলেন, ‘দুই বিচারক যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা সুপ্রিমকোর্টের গাইডলাইন এবং আমাদের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডের বিষয়ে তারা যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

গত ২ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়িকা পরীমণিকে দফায় দফায় রিমান্ড মঞ্জুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকদের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। পরিমণির মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট। এছাড়া পরীমণির বিরুদ্ধে বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলার সব নথি ও মামলার কেস ডকেটও তলব করা হয়।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওইদিন এ আদেশ দেন।আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সৈয়দা নাসরিন।

গত ২৯ আগস্ট উচ্চ আদালতের রায় না মেনে মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে বারবার নেওয়া রিমান্ড চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আবেদনে পরীমণিকে রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের রায় না মানার অভিযোগ আনা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন এ আবেদন দায়ের করেন।

গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমণির তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত পরীমণির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে পরীমণিকে প্রথম দফায় চার দিন ও দ্বিতীয় দফায় দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।

গত ৪ আগস্ট পরীমণিকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন র‍্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান।

গত ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট পরীমণিকে জামিন না দিয়ে তার আবেদন শুনানি প্রশ্নে রুল জারি করেন। রুলে রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির জামিন আবেদন আদেশ পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া পরীমণির জামিন আবেদন শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে নিম্ন আদালতের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। হাইকোর্টের আদেশের আলোকে গত ৩১ আগস্ট পরীমণিকে জামিন দেন বিচারিক আদালত।

আরও পড়ুন :

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন