• আজ বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২১ অক্টোবর, ২০২১ ৷

শিক্ষকের প্রহারে রক্তাক্ত মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী ইসমাইল


❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ ময়মনসিংহ

মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালে মুফতি ইমাম আবু সাঈদ নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের চরম প্রহারে রক্তাক্ত হয়েছেন সাড়ে চার বছরের এক শিশু শিক্ষার্থী।

স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের চাউলাদি আমতলা বাজারের মসজিদ সংশ্লিষ্ট মারকাযুশ শায়খ হুসাইন আহমদ মাদানী(রহঃ) মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেনকে বেধড়ক মারধর করেছে শিক্ষক মুফতি আবু সাঈদ।

ওই শিক্ষক শিশুটিকে মারতে মারতে শিশুটিকে এক পর্যায়ে সিঁড়ি থেকে নিচে ফেলে দেয়। এতে করে তার মাথায় ও মুখে মারাত্মক জখমের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তার সমস্ত শরীরে সুস্পষ্ট বেতের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটি ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল বাড়ি ফিরেছে।

শিশু ইসমাইলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়েছে বেশ কিছুদিন হলো। বাবা সুলতান মিয়া আবারও বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। সে তার বাবা-মাকে ছাড়া বৃদ্ধ দাদীর কাছে থেকে বড় হচ্ছে। অর্থনৈতিক কারণে এ নিয়ে কোনো আইনানুগ ঝামেলায় ঝড়াতে চাচ্ছে না বলেও তার পরিবারের লোকজন জানায়।

মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা মসজিদ কমিটি এই শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করবো।

কমিটির সভাপতি এবিএম আরিফুর রহমান সেলিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি জানার পর শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। তার চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। হুজুর এর আগে কখনো এমনটি করেনি। তবে এখন কেন এমনটি হলো তা আমিও বুঝতে পারতেছিনা।

উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মুনসুর বলেন, শিশুটিকে বেশ মারধর করা হয়েছে। তার শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তার মুখ ও মাথার আঘাতের চিহ্ন একটু গভীর। তাকে আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি।

মাদ্রাসায় খোঁজ নিয়ে না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম মুফতি সাইদ তার অপরাধ স্বীকার করে বলেন, আমার তাকে এভাবে মারা ঠিক হয়নি। তবে আমি তাকে সিড়ি থেকে ফেলে দেয়নি। সে আগেই সিড়ি থেকে পড়ে মাথায় ও মুখে আঘাত পায়।

তবে, তার চোখের সামনে এমন গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও সে কেন এই শিশুটিকে আবার মারলো এমন প্রশ্নে সে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন