• আজ বুধবার, ৪ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২০ অক্টোবর, ২০২১ ৷

অযথা মাঠ গরম করবেন না, সংবিধান অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন হবে: কাদের

kader
❏ শনিবার, অক্টোবর ২, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ‘পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সময়মতো সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অযথা মাঠ গরম করবেন না।’‌

আজ শনিবার (২ অক্টোবর) নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বিএনপির কথিত জোয়ার এখন ভাটায় পরিণত হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য উপস্থাপন করেন। আর, মাঝে মধ্যে তাঁর বাকচাতুর্য কল্পনাকেও হার মানায়।’

‘বিএনপির জনসমর্থনের জোয়ারে সরকারের হৃৎকম্পন শুরু হয়েছে’—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘এসব সৃজনশীল কথামালার চাতুরিতে ফখরুল ইসলাম আলমগীর আত্মতৃপ্তি বোধ করতে পারেন, কর্মীদের রোষানল থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য কল্পনার ফানুস ওড়াতে পারেন, কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য যে বিপরীত, তা দেশের মানুষ ঠিকই জানে।’

আওয়ামী লীগের এ শীর্ষনেতা আরও বলেন, ‘পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা বিএনপিকে আগেই পেয়ে বসেছে। তাই তাদেরই হৃদয়ে হৃৎকম্পন শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ভয়ে কাঁপে না। চ্যালেঞ্জ আর লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়াই বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি, আর সেই রাজনীতিই আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করে যাচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ দেশের রাজপথ জানে আওয়ামী লীগের আন্দোলন-সংগ্রামের বীরত্বগাথা আর সমৃদ্ধ ইতিহাস। জনগণ জানে বিএনপির হঠকারিতা, গণতন্ত্র হত্যা, ষড়যন্ত্র, লুটপাট আর সুবিধাবাদী রাজনীতির কথা। বিএনপির জনসমর্থনের জোয়ার তো গত ১৩ বছরে কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘তারা ভরাডুবির ভয়ে এখন নির্বাচনবিমুখ। তাই, রাজপথ আর ভোটের ময়দান ছেড়ে গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার আর আওয়ামী লীগকে হুমকি-ধমকি দিয়ে লাভ নেই। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের যে অপচেষ্টা করছেন, তা আমাদের অজানা নেই। বিএনপির সবকিছুতেই শর্ত এবং মামাবাড়ির আবদার।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলে নাকি তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। আসলে, বিএনপি ভালো করেই জানে—তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি একটি মীমাংসিত বিষয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল কে করেছে? উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছে। এ পদ্ধতি ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। দীর্ঘ মেয়াদে তত্বাবধায়ক সরকার চলতে পারে না।’ তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখন এগিয়ে যায় তখন সরকার ও নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরতে শুরু করে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে বহুদলীয় তামাশা আর সুবিধাবাদ চালু করেছিল, যাদের দলের অভ্যন্তরে নেই গণতন্ত্রের চর্চা, আজ তারাই গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন