দাড়ি-টুপি পরা মানুষ দেখলেই তাঁরা বলে জঙ্গি : মির্জা ফখরুল

fokrul n23
❏ রবিবার, অক্টোবর ৩, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার ইসলাম ধর্মের ওপর একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে। দাড়ি আর টুপি পরা মানুষ দেখলেই সরকার বলে জঙ্গি। এই জঙ্গি হিসেবে তারা যে কতজনকে হয়রানি করেছে, কতজনকে তুলে নিয়ে গেছে, তার হিসাব নেই। এই একটা শব্দ তুলে তারা পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।’

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারের হাতে কেউ নিরাপদ নয়। শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, কোনো ধর্মই নিরাপদ নয়। তাঁদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়, নিরাপদ নয় দেশের মানুষ। কাজেই তাঁদের হাত থেকে মুক্ত হতে হবে।

চলমান সংকট এখন পুরো জাতির জন্য মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলেন বিএনপির সংকট। সংকটে বিএনপি নয়, সংকট হচ্ছে গোটা জাতির। এই কথাটা আমাদেরকে বুঝতে হবে এবং এই কথাটিই মানুষকে বোঝাতে হবে। আজকে গণতন্ত্র নেই, নির্বাচন হয় না, কোনো জবাবদিহিতা নাই, যে যেখানে পারছে চুরি করছে, ডাকাতি করছে। আইন-শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। এই দেশ তো আমরা চাইনি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজকে সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছে মানুষের। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল আমরা চমৎকার একটা রাষ্ট্র গঠন করব। যে রাষ্ট্রে মানুষের অধিকার থাকবে, যে রাষ্ট্রে মানুষ কথা বলতে পারবে, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে রাষ্ট্র, সমাজ চেয়েছিলাম সেটা হবে একটা মুক্ত সমাজ, গণতান্ত্রিক সমাজ। আর অন্য কোনো দেশের পরাধীন হয়ে থাকা নয়। একটি স্বাধীন সার্বভৌম মুক্ত দেশ আমরা চেয়েছিলাম এবং সেই লক্ষ্যে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম।

‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরেও এই দলটি ক্ষমতায় আছে। তারা সেদিনও ক্ষমতায় ছিল। তারা ক্ষমতায় এসে প্রথম যে কাজটি করেছে এই দেশের মেজরিটি মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষাকে তারা ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। তারা এখানে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দেয়নি। যে সংবিধান তৈরি করেছিল, সেটাকে তারা কাটা-ছেঁড়া করেছে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। সেই সময় যারা ভিন্ন মত পোষণ করেছে, তাদেরকে তারা অত্যাচার করেছে, হত্যা করেছে।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন