ইলিশ আকালের মধ্য দিয়ে ২২ দিনের অবরোধ

Patuakhali news
❏ রবিবার, অক্টোবর ৩, ২০২১ বরিশাল

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: আজ (৩ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে মা ইলিশের র্নিবিঘ্নে প্রজননের জন্য ২২দিনের অবরোধ। মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের আরোপিত অবরোধকালীন সময়কে আত্মঘাতী বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীসহ জেলেরা। মৎস্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কমকর্তাসহ জেলে-ব্যবসায়ীদের মতামতকে উপেক্ষা করে এ অবরোধ করা হয়েছে এমন দাবী তাদের। দখিনের মৎস্য নির্ভর অর্থনীতিকে ধ্বংসের পাঁয়তারাও বলে মনে করছেন তাদের অনেকেই।

এদিকে চলতি মৌসুম জুড়ে জেলেদের জালে ছিল ইলিশের আকাল। পরিমানে কম হলেও যেসব মাছ মিলেছে তাও ছিল আকারে ছোট। জাটকা সাইজের এসব মাছের পাইকারী এবং খুরচা বাজারে দর ছিল অনেক বেশি। মাছের এ অপর্যাপ্ততার জন্য দেশের সমুদ্র সীমানায় প্রতিবেশী জেলেদের আবাধ মাছ শিকার, নিষিদ্ধ বেহুন্দী জাল দিয়ে ট্রলিং বোডের মাছ শিকার, রপ্তানীসহ অপরিকল্পিত অবরোধ আরোপকে দ্বায়ী করেছেন ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

জেলেসহ ব্যবসায়ীরা জানান, সারা বছর কমবেশি ডিম ছাড়লেও আশ্বিনের ভরা পূর্নিমায় সাগর উপকুলের নদী মোহনায় ডিম ছাড়ে ইলিশ। এ সময়কে নির্ধারন করে মা ইলিশের বাঁধাহীন প্রজননের জন্য ২০০৬ সাল থেকে ২২ দিন নদী-সাগরে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়। কিন্তু চলতি বছর ইলিশের এ জীবনচক্রকে উপেক্ষা করে আমাবশ্যার ৫দিন আগে থেকেই আরোপ করা হয়েছে অবরোধ।

মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ফজলু গাজী বলেন, ইলিশের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত সময়ের কুড়ি দিন আগে থেকেই ২২দিনের অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এটি ইলিশসহ সব মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কোন সুফল বয়ে আনবেনা। তিনি দাবী করেন, মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়া অবিবেচনা প্রসূত মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের এমন সিদ্বান্তের কারণে দিনদিন মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দিদারউদ্দিন আহম্মেদ মাসুম বলেন, ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে আবরোধ। অথচ ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে ইলিশ রপ্তানীর।

মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বলেন, নিষিদ্ধ বেহুন্দি সাদৃশ্য জাল দিয়ে ট্রলিং বোড সাগরে অবাধে মাছ শিকার করছে। আধা ইঞ্চি সাইজের মাছ এসব জালের শিকার হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বড় মাছটি রেখে হাজার হাজার টন মাছ মেরে সাগরে ফেলে দেয়া হচ্ছে। এটিকে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার যত উদ্যোগ গ্রহন করুক কাজে আসবেনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জেলেদের জালে ধরা পড়া অধিকাংশ ইলিশ আকারে ছোট। বড় ইলিশের ২০ শতাংশের পেটে ডিম রয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে জেলে-ব্যবসায়ীসহ মাঠ পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবরের পর থেকে আবরোধ আরোপের জন্য মতামত দিয়ে দিয়েছিলাম।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ বলেন, বিষয়টি বিজ্ঞান ভিত্তিক হওয়ায় মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতামত নিয়ে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয় উপযুক্ত সময় মনে করে এ সময়ে অবরোধ করেছেন। কাজেই সুফল না পাওয়ার কোন কারণ নেই।