দেশের কোনও মানুষই টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

pm n234n
❏ বুধবার, অক্টোবর ৬, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রশাসন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই এবং আমার নিজের দলের নেতাকর্মীরাও শৃঙ্খলা রক্ষা করে যেন টিকা পায় সেজন্য নির্দেশ দিয়েছি। সবাই কাজ করায় এখানে একটা বিরাট সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। বাংলাদেশের কোনও মানুষই বঞ্চিত হবে না। সবাই যাতে টিকা পায় সেই ব্যবস্থাটা আমরা করবো।

বুধবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে ১১৯তম ও ১২০তম আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি অনেকেই এই করোনাকালীন মানুষের সেবা করতে গিয়ে জীবন পর্যন্ত দিয়েছেন। আমাদের প্রশাসনের সবাই টিকাদান কর্মসূচিতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন এবং টিকা দিয়ে যাচ্ছেন। এত সুন্দরভাবে টিকাদান কর্মসূচি চলছে, এ জন্য এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি পৃথিবীর অনেক দেশে দেখেছি, টিকা নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছে। সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এমনও হয়েছে একজন একডোজ পেয়েছে, হয়তো ছয় মাস হয়ে গেছে দ্বিতীয় ডোজ পাচ্ছে না। বাংলাদেশে কিন্তু আমরা পরিকল্পিতভাবেই টিকা দিয়ে যাচ্ছি।’

বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, ‘সব সময় এটা মাথায় রাখতে হবে এই দেশ, মাটি, মানুষ আমাদের। তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা, একটা সুন্দর জীবন দেওয়া—এটাই লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যটা পূরণে আসলে মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে এই মাঠ প্রশাসন। কাজেই আপনারা দায়িত্ব সেইভাবে পালন করবেন। এটাই আমি চাই।’

এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে এই হচ্ছে আমার জীবনের স্বপ্ন। এই অল্প কথার মাধ্যমে এটা প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কী কারণে সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন।

‘মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একটি প্রদেশ ছিল বাংলাদেশ। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও সকল সুবিধা থেকে ছিল বঞ্চিত। স্বাধীনতার পর তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। যেখানে একটি টাকাও রিজার্ভ মানি ছিল না। কোনো খাদ্য ছিল না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেইভাবেই কিন্তু শূন্য থেকে যাত্রা শুরু। বঙ্গবন্ধু একদিক থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলেন, অন্যদিকে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের কাজ করেন।’

বঙ্গবন্ধুর ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ ভাষণের লাইন তুলে ধরে তার জ্যেষ্ঠকন্যা বলেন, ‘আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় এই গরিব কৃষক, আপনের মাইনে দেয় এই গরিব শ্রমিক, আপনার সংসার চলে ওই টাকায়, আমি গাড়ি চলি ওই টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলুন, ইজ্জত করে কথা বলুন, ওরাই মালিক।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মালিক জনগণ। আমাদের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদেও এই কথা বলা আছে। কাজেই সেই শিক্ষাটাই তিনি দিতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ এর ২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি কর্মচারী সার্বক্ষণিকভাবে জনগণের সেবা প্রদানে বাধ্য।’

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে জনগণের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করবেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন