• আজ বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ৷

কেরানীগঞ্জে ১৪৬ মন্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ


❏ বুধবার, অক্টোবর ৬, ২০২১ ঢাকা

মাসুম পারভেজ, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) : সারাদেশে ন্যায় কেরানীগঞ্জ উপজেলাসহ সর্বত্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গা উৎসব। উপজেলার দু’টি থানার ১২টি ইউনিয়নে ১৪৬টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলায় হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গা উৎসব ঘিরে পুজা মন্ডপে মন্ডপে এবং বাড়িতে বাড়িতে দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখানকার শিল্পীরা। আর ক’দিন পরে আসছেন দেবী দুর্গা। উপজেলায় দেবীর আগমন কে ঘিরে দিনরাত পরিশ্রম করে তাদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় তৈরী করছেন একেকটি অসাধারণ সুন্দর প্রতিমা। মন্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে রঙ তুলি কাজ শুরু করবেন শিল্পরা। পাশাপাশি পুজা মন্ডপে সাজসজ্জার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

বিভিন্ন পুজামন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, শিল্পীরা পুজা মন্ডপের পাশাপাশি নিজ বাড়িতেই শুরু করেছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। প্রতিমা শিল্পীরা জানান, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে প্রতিমা তৈরির উপকরন কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। এবার প্রতিমা বিক্রি করে কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে হতাশ হচ্ছে বলে জানান শিল্পীরা। তারা আরও জানান, এক সেট প্রতিমা তৈরী করতে শিল্পীদের সর্বনিম্ন ৯ থেকে ১১ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিমা তৈরির জন্য তাদের তিন থেকে চার ভ্যান মাটি লাগে। খড়ের আউর লাগে। এছাড়াও কাঠ, বাঁশ, দঁড়ি, পেরেক, সুতা ও ধানের গুড়াসহ বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন হয়। আর বাকি জিনিসগুলোর জন্য আরও খরচ হয় কয়েক হাজার টাকার মত। বর্তমানে সব দ্রব্যের দাম বেড়েছে, এর জন্য লাভ কম হবে বলে জানান তারা।

উপজেলার প্রতিমা শিল্পী সৌরভ পাল বলেন, গতবছরের তুলনায় কম প্রতিমা সেট নিয়েছে। গতবছরের ৮টি প্রতিমা সেট তৈরির কাজ করেছি এবার সময় কম থাকার কারনে মাত্র ৫টি সেটের কাজ নিয়েছি। এ প্রতিমা কেরানীগঞ্জের মালোপাড়া ও শুভাঢ্যা এলাকার মন্ডপে যাবে। এবারে সর্বোচ্চ মূল্য ১৫ হাজার টাকার একটি প্রতিমা সেটের কাজ করেছি।

উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল সরকার বলেন, সরকারি নির্দেশেনা অনুযায়ী মোট ১৪৬টি পূজা মন্ডপে দেবী দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। এবারও পুজোয় গতবছরের ন্যায় সকল ভক্তদের মুখে মাস্ক থাকবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিমা দর্শন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পুজা উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতেমধ্যে পুজা উদযাপন পরিষদের সাথে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সাথে বৈঠক হয়েছে। তারা জানিছেন, মন্ডপগুলোতে সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিবেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) মো. শাহাবুদ্দিন কবীর বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উৎসব মুখর পরিবেশে পালন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। প্রতিটা মন্ডপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারিতে থাকবে।