সৈকতের ঝাউবাগান দখল করে গড়া বসতি উচ্ছেদ

Cox's Bazar news
❏ শুক্রবার, অক্টোবর ৮, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সৈকতের সমিতিপাড়া ও হিমছড়ি পয়েন্টের ঝাউবাগান দখল করে গড়ে উঠা বসতি অবশেষে উচ্ছেদ করেছে বনবিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা অভিযান চালিয়ে নতুন গড়া ডজনাধিক ঝুপড়ি বসতি তুলে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা। সামুদ্রিক ঝড়-ঝঞ্জা রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত ঝাউবীথি কেটে সম্প্রতি এসব ঝুপড়ি ঘর তুলছিল দখলদাররা।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা বলেন, কক্সবাজার সৈকতের কলাতলি থেকে উত্তরে নাজিরারটেক পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে বালিয়াড়ি রক্ষাকবচ ঝাউবাগান। ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট থেকে উত্তর দিকের পুরোনো বাগানগুলোর অধিকাংশ দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়েছিল। আর জলোচ্ছাসের ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে যায় কিছু গাছ। এরপর আবারো চারা লাগিয়ে সৃষ্টি করা হয় ঝাউবাগান। বর্তমানে গাছগুলো প্রায় ৫ থেকে ১০ফুট লম্বা হয়েছে। এরই মাঝে ঝাউবাগানের গাছ কেটে জমি দখলে নিয়ে তোলা হচ্ছে ঝুপড়ি ঘর। গত সেপ্টেম্বরে বেশ কয়েকজন ১৫ থেকে ২০ শতক করে জমি দখলে নিয়ে ঝুপড়ি বসতি তুলার খবর আসে।

তিনি আরো জানান, বনবিভাগকে বেকায়দায় ফেলতে প্রচার করা হয় ঝাউবাগান রক্ষায় গঠন করা কমিউিনিটি পেট্রোলিং গ্রুপ (সিপিজি)’র দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে কস্তুরাঘাট বিট কর্মকর্তা জমি দখল ও ঘর বাবদ আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। এসব বিষয় উল্লেখ করে গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রচার হলে তা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দক্ষিণের নজরে আসে। তার নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার সকাল হতে উচ্ছেদ অভিযানে নামে বনবিভাগ। দিন ব্যাপী চেষ্টায় সমিতিপাড়া ও হিমছড়ি এলাকায় অভিযানে ডজনাধিক ঝুপড়ি বসতি উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়। এতে প্রায় ৬ একর বনভূমি দখল মুক্ত হয় বলে উল্লেখ করে বনবিভাগ।

অভিযানে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (সদর) মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, কক্সবাজার রেঞ্জ এর রেঞ্জ কর্মকর্তা,সমীর রঞ্জন সাহা, কলাতলী, হিমছড়ি, কস্তুরাঘাট ও ঝিলংজা বিট অফিসের বিট কর্মকর্তা অন্যান্য বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যগণ অংশ নেন।

সূত্র মতে, সৈকত তীরের জমির মালিক জেলা প্রশাসন। কিন্তু ঝাউবাগানটা বনবিভাগ করে বলেই জমির দেখভালও তাদের দায়িত্বে পড়ে। বনবিভাগের তৎপরতা থাকলে ঝাউবাগান দখল বন্ধ থাকে। কিন্তু মাস দুয়েক আগে একটি দুর্ঘটনায় সদর রেঞ্জার মারাত্মক আহত হয়ে বেশ কিছুদিন হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেন নি। এরই মাঝে টহল কমে যাওয়ায় পক্ষকাল আগে ঝাউবাগানের কিছু অংশে দখল করে ঘর উঠায় লোকজন। যদিও তাদের দাবি ১০-১২ বছরের পুরোনো ঘর মেরামত করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু কক্সবাজার সফরে এসে সৈকতের বালিয়াড়ি রক্ষায় ঝাউবাগান সৃজনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ঝাউবাগান আজ পর্যটন শিল্প বিকাশের অন্যতম সহায়ক। তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে কক্সবাজার শহর রক্ষা কবচও এটি। তাই এটি রক্ষায় গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার তাগাদা দিয়ে আসছেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন