• আজ বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২১ অক্টোবর, ২০২১ ৷

মাধবপুরে মাল্টা চাষে সফল দিলরুবা খাতুন

Habigonj news
❏ শনিবার, অক্টোবর ৯, ২০২১ সিলেট

মঈনুল হাসান রতন,  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:  হবিগঞ্জের মাধবপুরের গৃহিণী দিলরুবা খাতুন ১৬ শতক জমিতে মাল্টা চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন। ইতোমধ্যে বাগান জুড়ে মাল্টা গাছে ফল এসেছে। এবছর এক লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

মাধবপুর উপজেলার ১নং ধর্মঘর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকার মোঃ আবু জুয়েনের স্ত্রী দিলরুবা খাতুন। বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ৪ বছর আগে স্বপ্ন পূরণ করতে শুরু করেন তিনি মাল্টা বাগান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিলরুবা খাতুন মাল্টা বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তিনি জানান ৪ বছর আগে ১৬ শতক জমিতে মাল্টার ভাল মানের চারা রোপন করি। সঠিক পরিচর্যায় চারাগুলো আস্তে আস্তে বড় হতে শুরু করে। আমার এই বাগানে এখন প্রায় ৫৪টি মাল্টা গাছ রয়েছে। গত বছর থেকে আমার মাল্টা গাছে ফল ধরতে শুরু করে। প্রায় ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করি গত বছর। গত বছরের তুলনায় এবার বাগানে ফলন বেশ ভাল হয়েছে। এলাকার অনেক মানুষ আমার বাগান থেকে মাল্টা ফল কিনে নিচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে। আমার বাগানের মাল্টা ফল মাধবপুর উপজেলা সদর বাজারের পাইকাররা এসে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে এতে সত্যি আমি খুবই আনন্দিত। এই বছর বেশি বৃষ্টি কারণে মাল্টা গাছের নিচে পানি জমে গাছ থেকে ফল ঝরতে শুরু করে। এমন অবস্থায় তারাতাড়ি উপসহকারি অফিসার তাপস চন্দ্র দেব এর পরামর্শে ঔষধ ব্যবহারে ফল ঝরা বন্ধ হয়। দিলরুবা আরও জানান, মাল্টা গাছে মাঝে মধ্যে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। কৃষি অফিসের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করে তা দমন করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে মাল্টা চাষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চাষীই মাল্টার বাগান দেখতে ভিড় করছে এবং চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। আগামীতে মাল্টা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন । এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন পেশার লোকজন মাল্টা বাগান পরিদর্শনে যাচ্ছেন এবং মাধবপুরের অনেক চাষী নতুন বাগান তৈরির আগ্রহ দেখিয়েছেন।

স্থানীয় বাবুল মিয়া বলেন, খবর শোনার পর আমি বাগানটি পরিদর্শনে যাই। সেখান থেকে কাঁচা অবস্থায় মাল্টা রস করে খেয়েছি। স্বাদ খুব ভাল। একজন নারী চাষী সাহস নিয়ে এত বড় বাগান গড়ে তুলেছে, দেখে খুব মুগ্ধ হয়েছি। মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বলেন, আমাদের তত্ত্বাবধায়নে নারী কৃষি উদ্দোক্তা দিলরুবা মাল্টার চাষ করেছে। শুরু থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। পুরোপুরি উৎপাদন শুরু হলে এলাকার চাহিদার পাশাপাশি উপজেলার চাহিদার কিছুটা হলেও পূরণ করতে সক্ষম হবে। তাছাড়া আশপাশের এলাকার চাষীরা মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে ।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন