• আজ সোমবার, ৯ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৫ অক্টোবর, ২০২১ ৷

কক্সবাজারে ৩০৪ মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপুজার প্রস্তুতি

Cox's Bazar news
❏ রবিবার, অক্টোবর ১০, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার জেলায় ৩০৪ টি মন্ডপে এবার শারদীয় দূর্গাপুজার আয়োজন চলছে। এর মাঝে ১৪৯ প্রতিমা ও ১৫৫ টি ঘট পূজা। ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য পূজা মন্ডপগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথা বলছে জেলা পুলিশ। ৩০৪ মন্ডপের জন্য ১৪৮ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

শনিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ।

সভায় তিনি বলেন, বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে কক্সবাজারের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। করোনার কারণে এ বছরও সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মাস্ক ছাড়া কেউ মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন না।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে মা দুর্গাকে বরণের প্রস্তুতি। এবার মা দুর্গা মর্ত্যলোকে আসবেন ঘোড়ায় চড়ে। আর দেবলোকে ফিরে যাবেন দোলায় চড়ে।

তার মতে, এবার নবগঠিত ঈদগাহ উপজেলাসহ সদরে ৩৪টি প্রতিমা পূজা ও ২০টি ঘট পূজা হবে। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভায় ১১টি প্রতিমা ও ৯টি ঘট পূজা, রামুতে ২২টি প্রতিমা ও ১০টি ঘট পূজা, পেকুয়ায় ৬টি প্রতিমা ও ৩টি ঘট পূজা, চকরিয়ায় পৌরসভাসহ ৪৮টি প্রতিমা ও ৪৩টি ঘট পূজা, কুতুবদিয়ায় ১৩টি প্রতিমা ও ৩২টি ঘট পূজা, মহেশখালীতে পৌরসভায় ১টি প্রতিমা ও ৩০টি ঘট পূজা, উখিয়ায় ৭টি প্রতিমা ও ৮ ঘট পূজা, টেকনাফে ৬টি প্রতিমা পূজা এবং উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১টি প্রতিমা পূজার আয়োজন চলছে। ৩০৪ মন্ডপের জন্য ১৪৮ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মতবিনিময় সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি রতন দাশ, স্বপন পাল (নাজির), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক দীপক শর্মা দিপু, সরূপম পাল পাঞ্জু, মহিলা সম্পাদিকা দীপ্তি শর্মা, এড. প্রতিভা দাশ, কক্সবাজার পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বেন্টু দাশ, সাধারণ সম্পাদক জনি ধর, সদর উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড. বাপ্পি শর্মা, সাধারণ সম্পাদক বাবলা পালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

শহরের সরস্বতী বাড়িসহ বেশ কয়েকটি মন্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা। তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠছে দেবী দুর্গা। একইসঙ্গে চলছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমার ফিনিশিং। নানা রঙে দৃষ্টিনন্দন সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিমা গুলোকে। উৎসুক অনেক দর্শনার্থী ভিড় করছেন এসব প্রতিমা তৈরির কারখানাসহ মন্ডপে।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রথমে খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করে দেয়া হয় মাটির প্রলেপ। তারপর শুকিয়ে করা হয় ফিনিশিং। এরপর দেয়া হয় সাদা রঙ। সাদা রঙ শুকালে বিভিন্ন রঙে সাজিয়ে তোলা হয় প্রতিমা। মৃৎশিল্পীরা আরও জানান, প্রতিমার ৯০ ভাগ কাজ প্রায় শেষ। বাকি কাজ শেষ হবে আজ-কাল। অনেক অর্ডার বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে প্রতিমা।

মৃৎশিল্পীরা অভিযোগ করেন, গতবছর করোনার কঠিন সময়ে কেউ তাদের পাশে দাঁড়াননি। ওই সময়টা ভীষণ কষ্টে কেটেছে তাদের। গতবছরের করোনার ক্ষতি এবার কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ করেন তারা।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর (বুধবার) শুভ মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে দেবী পক্ষের। আর এই মহালয়ার দিন থেকে শুরু হয়েছে পূজার ক্ষণগণনা। ১১ অক্টোবর (সোমবার) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১৫ অক্টোবর (শুক্রবার) দশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচদিন ব্যাপী শারদীয় এই উৎসব। পূজা পরিদর্শনে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে মন্ডপে আসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাপ্পী শর্মা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন